ভেরি ফিশি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

একটাও মাছ না পাইলাম যে কতই চমৎকার
হি হি কতই চমৎকার!

একটা মাছ পাইয়া ফেললেই কমত চমৎকার
শেষে কমত চমৎকার

দুইটা মাছ ত পাইতে হইলে হইত সাধারণ
আহা সব কিছুই তখন কিন্তু হইত সাধারণ

তিনটা মাছের প্রাপ্তি আমার ঘটল অকারণ
মানে, পাইলে তাইলে বলা যাইত
দুলাল ভাইয়ের তিনটা মাছের কারণ অকারণ

চাইরটা মাছের ধরা পড়া বড়ই অত্যাচার
যে জন একটাও মাছ পাইল না হের চাইরটা মাছের গাছ—
এ কি কুকিল নাকি দোরা কাউয়া
যে তুমি পানির নিচে হাত পাতলেই কান্ধে দিব ডাক

ইটস এ বেঙ্গলিয়ান ক্যানাডিয়ান ফিশিং ফিশিং ফাক!

২১/৯/২০১৫

বহুগামী কবিদের টাইডাল ওয়েভ

বুঝছো—তুমি একটি বারই ব্রেক আপ করবা
বয়ফ্রেন্ড ছেড়ে আইসা পড়বা
বিকালের আগেভাগেই।

এরপর আমরা দুইজন মিলা
ঘুরতে থাকব ছন্দে
ডানে তাকাইব আনন্দে আর বামেও তো
একই আনন্দ।

শাহবাগেই কত পরীরা ঘুরছে,
ওরা ছোট কবিদের বন্ধু,
তোমারে ছাড়াও ওদের সঙ্গে করব—
বেংলা কবিতার মায়রে চুদব
পেয়ারার গাছে দাঁড়কাক আছে
চোদাচুদিময় বাংলা!

মেয়েদেরই দিকে তাকাইয়া থাকব, আমরা—
অন্য কারো কি এসব ব্যাপারে মতামত নিব,
কামু কী বলেন আপনি?

১৪/৬/২০১৫

রাস্তায়

সকলে যেদিকে দৌড়ে চলেছে
সেদিকে তুমি কি যাবা না না নাকি?
ভোরবেলা ছিল অন্য রকমই
যত দিন হলো
আগেকার সব ঘটা ঘটনারা
একে একে সব ঘটতে চলেছে?

এখন আবার ধুলায় বসিয়া
কানতে থাকবা
ওগো পাঠকিনী?

এই এই করে কত দিন গেল
তোমার আগেই পৃথিবীর চাকা
সে সে পথ দিয়ে ঠিক চলে গেছে
তবে এও ঠিক
চাকাদের দিন অল্প দিনেরই। তবু,
তার আগে যদি ফিরিতে না পারো
পথেই তোমার দিবস ফুরাবে
বড়জোর তুমি জীবনানন্দের
গ্রেট কবিতাই পড়তে থাকবা
ভাবতে থাকবা গ্রামে গেছো গিয়া।

গ্রামে কারা পড়ে জীবনানন্দ?

৭/৬/২০১৫

কবির দল

দেখো বয়স্ক আর হাড্ডিশুখনা রামকবিদের দল
পরস্পরের পাখনা ধরে ঘোঁট পাকিয়ে পরস্পরে
রাজার ক্ষেতের পাড়ে
যেন উবে যাওয়ার আগমুহূর্তে
পায়ের পাতা শক্ত করল
মার্তৃগর্ভ ছেদন করল
তারপর তারা দাঁড়াল ভয়ঙ্কর।

যারা জায়গা পায় নি সামনাসামনি
রাজার চাইতে একটু বয়স কম
তারাও ক্ষেত ছাড়ে না
ক্ষেতের পাশেই একাডেমি
সেথায় সভার কাছেই
রাজার দিকে তাদের লম্বা হাত বাড়ানো
কাউয়া এসে বসেছে দীঘল হাতে—
তাদেরও আশা পূর্ণ হলো
রাজাটি যখন হাসিল উত্তরে।

আর ওই যে বাচ্চা কবির তরুণ ছবির করুণ দেখা পাওয়া—
তাও যাচ্ছে পাওয়া।
ওরাও, তেমন তরুণ যদিও নয়,
তবু বড় কবিদের লাগোয়া দল ওরা—
ওরা ছাপাই দঙ্গল—
ওরা নাতি কবি নাতনি কবি
আরো কবিদের সঙ্গে নিয়ে
ফুলের দণ্ডসম ওই তো ঝকমকাচ্ছে—
যেন ফুলের দলটি
কাকে দেবে আর কাকে দেবে না
নিজেদের ওরা ঠিক রাখতে পারছে না।

এরই মধ্যে
এদের মালিক যারা
ইন্ডিয়ারা
যেই,
বিমান থেকে নামিল ঢাকা ক্লাবে—
প্রথমে একজন পদ্মশ্রীই তো দৌড়ে গেলেন
তারপর গেল ফুলের দলটি
ততঃপরে মাঝারি কবি হেলতে দুলতে
বড় কবিরা রাজাটি সঙ্গে করে।

না, মহাভারত থেকে মোদীর সঙ্গে
পাইকার কোনো কবি আসে নি তাই
আপাতত তারা কুর্নিশিবেন ক্লাবে,
দেবেশ রায়ের দ্বারে।

৫/৬/২০১৫

নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ: আ জার্নি বাই বোট (২০)

এই বেলা অনেক ডিস্টার্ব হইল
জলে স্থলে নিরানন্দ
আকাশে বাতাসে নাহি গান
এভাবে বাঁচবার কোনো দরকার আছে কি
গুরু
যদি মনের ইচ্ছা
নদীর এ স্বচ্ছ জলে দাগ না কাটিল
এই বেলা
গুরু তবে জলে ঝাঁপ দেই?—বলিলা কর্তব্যরতা
আনন্দশায়িনী এক
গুরুর নৌকার।

গুরু কয়, কয় কী কয় কী!
জল, স্থল, নিরানন্দ, আকাশ, বাতাস, গান
এ তো দেখি মহিলা কবিটি—
এ মাগীর কাম
সাপ্রেসড হইয়াই আছে
এরে চোদা  দাও!

তখন সে ইচ্ছায়িনী, শরীরিনী, নিরানন্দটিনী
বলল, গুরু সত্য সত্য আমাকে করবেন?
কিন্তু আমার তো আপনার এই পাপের নৌকায়
শরীরের অভাব ঘটে না—
আমি দিবারাত্র উপর-নিচ করতেই থাকতেছি
আপনার নায়ের সব সারেং, কাপ্তেন,
খালাসি, ডুবুরি, মাল্লা সকল খান্নাছ
সহিবার ভার
এ আমার ছোট্ট দেহ ধারণ করেছে,
আজো আমি রাত্রিবেলা
ঘুমাবার কালে
জাহাজের রান্নাঘর সংলগ্ন সিঁড়িতে
দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে আমি আজই তো করলাম
প্রাইভেসিতে শ্রদ্ধার মানবিক কারণে আমি সে পুরুষাঙ্গের
মালিকের নামটি বলছি না।
কিন্তু গুরু, বিশ্বাস করেন
এত জাপটাজাপটি
সাপটাসাপটি, লেপাটালেপটি, গমনাগমন
এতে কোনো আনন্দ ঘটে না
করলেন কি করলেন না দিয়া
বস্তুত শরীরের চোদা খাওয়া দিয়া গুরু মনের ইচ্ছার
প্রভাবনা পরিবেশে আদৌ পড়ে না
আদৌ সঞ্চার হয় না সকালের সূর্যের আনন্দ কিংবা শিশুর সারল্য অর
যেমতি সাঁঝের কালে দূর দিয়া পাখির উড়াল
আমারে কী জানি দেয়
সে সমস্ত এই খানে চিরতরে হ্যাং হইয়া আছে;
ঘাটে বান্ধা জাহাজের দুলুনিতে আমার চিত্তে কোনো দোলা তো লাগে না—
খানিক ঘুম পায়, ভাবি ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে
জাহাজে ঘুরতে আছি
গুরু আমি জাগনা না ঘুমাইন্না?

২৭/৩/২০১৫

যাইও না যাইও না রে

ও ভাই সুশীল রে

আইল দেশে সিপি গ্যাং
কান্ধে লও ভাই ভাংগা ঠ্যাং
তোমার শহীদ মিনার
তোমার শহীদ মিনার তোমার যাওয়া হইল না

ও ভাই সুশীল রে

ভাই রে সুশীল বুঝছ নি
তোমার গানের গোয়া
তোমার গানের গোয়া মাইরা দিল
সিপি গ্যাংয়ের গ্যাংগানি

ও ভাই সুশীল রে

দেইখা জুতার তলানি
না চমকাইয়ো এক্ষুনি
তোমার জন্যে
ওরা তোমার জন্যে নিয়া আসবে আস্ত জুতার কারখানা

ভাই রে সুশীল রে

১১/১১/২০১৪

থাকো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, নিরাপদ দূরত্বে

উৎসর্গ: ইমতিয়াজ আলম বেগ

যদি তুমি কার্জন হলে
যদি তুমি শহীদুল্লাহ হলে
যদি তুমি বহিরাগতই
অন্তত তোমার তো
নামকরা নাম
থাকা তো দরকার
অন্তত যদি বা
মাইর খাইবার পরে
যদি তুমি সে দিয়া
ঠসা বসা মিডলক্লাসেরে
খাড়া করতে চাও
কেননা শিক্ষিত
লোকেরা বলো তো
শিক্ষিত লোকেরে
মারিতে কি পারে
যে জন দিবসে

৬/১১/২৯১৪

একজন গডো বা পিয়াস করিমের প্রতীক্ষায় শহীদ মিনারে তার লাশের শূন্যস্থানটি যা ভাবছে

আপনি কি একজন ঢাকাই কালচারাল সেক্যুলার। তাইলে আমার কথাও আপনি শুনবেন। কারণ আপনি উদার, পরমতসহিষ্ণু ও অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন।

আপনার মধ্যে শহীদ মিনার লইয়া যেই পবিত্রতার আহাজারি জাইগা উঠছে এইটারে আমি ধর্মীয় পবিত্রতা বোধের বা সেকরেড চৈতন্যেরই জাগরণ বলতে চাই।

আপনারা যে এত পবিত্রতার ধজ্বা তা এতদিন কী প্রক্রিয়ায় লুকায় রাখছিলেন! মৃত পিয়াস করিম আপনাদের মধ্যে এই অগ্নি বা ফায়ার জাগায় দিলেন কি? তাই যত ঘৃণা তারে আপনারা করতেন তাতে আরো ঘৃণা যুক্ত করতে পারেন। মৃত পিয়াস আপনাদের লইয়া হাসতে হাসতে মড়ার খাট থিকা উইঠা বসতেও পারেন। কিন্তু আমি এই নিয়া কৌশলগত কারণেই এখন হাসতে চাই না। আমি চাই বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ। যেই যোগাযোগ আমারে বলবে কীভাবে আপনারা এত কনট্রাডিকশন পেটের মইধ্যে ভইরা রাখতে পারেন।

এবং আমি সিরিয়াস ভাবেই বলব, এইটা আপনাদের ধর্মেরই অনুকরণ। স্বতঃ ঘটমান রিয়ালিটি ইনি নন।

জানাযার নামাজ না পড়াইতে চাওয়ার যে মোল্লা সামাজিক অসম্মতি, আপনাদের সেক্যুলার শহীদ মিনার থিকা সেই অসম্মতিই আজান দিতাছে। পাড়ার সবাই যেমন ঠিক করে এই শয়তানের জানাযা হবে না, এই ‘শহীদ মিনারের মধ্যে কোনো পিয়াস করিম হবে না’ও সেই রকম অসম্মতিই।

এখন আপনাদের শহীদ মিনারে যেহেতু বাংলার অমিত ‘শয়তান’ বুদ্ধিজীবী (মারা গেছেন তায় এখন তার শরীর ঠাণ্ডা তাই রসিকতা করলাম) পিয়াস করিমের লাশের একটা অনুপস্থিতির উপস্থিতি তৈরি হইছে–এই পুরা ব্যাপারটা দীর্ঘকালীন একটা জনসাংস্কৃতিক থাইকা যাওয়া ট্রাফিক জ্যাম, সেশন জট বা ব্রিজ তৈরি না-হওয়া হিসাবে আপনাদের কালচাররে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকবে। আপনাদের বার বার দেখাইতে হবে আপনারা কতই না সেক্যুলার, পবিত্রতা-টবিত্রতা আপনাদের হাতের মোয়া মাত্র।

কিন্তু আপনাদের জন্যে কী রোদনে ভরা এই অক্টোবর, শহীদ মিনার নামটাই এখন পিয়াস করিম নামের লগে খাপে খাপ হইয়া গেল।

বহুদিন আর আপনারা পিয়াস করিমের চেহারা মনে না কইরা শহীদ মিনার ভাবনাটি ভাবতে পারবেন না।

দেখবেন, গডো বা পিয়াস করিম নামের এই ‘পাকিস্তান’টা, ‘জামাত-শিবির’ করা এই হাফ ডেডটা যাতে না পবিত্র শহীদ মিনারে কোনো দিক দিয়াই রাতের অন্ধকারে ঢুইকা না পড়ে।

১৭/১০/২০১৪

আধুনিক মহাভারতে আমাদের বসবাস

ভারতীয় বই মানেই হিন্দু বই নয়।

ভারতীয় বই মানেই হিন্দু বই নয়। কিন্তু যদি হইতোও তাতে অসুবিধা ছিল না।

ভারতীয় বই মানেই হিন্দু বই নয়, ভারতীয় গরু মানেই হিন্দু গরু নয়, ভারতীয় ডিম মানেই হিন্দু ডিম নয়।

তবু আমাদের এইসব কিনতে হয়, খাইতে হয়, পড়তে হয়।

যদি এইসব জিনিস হিন্দু হইতো তবুও আমরা ভারতীয় বই পড়তাম, ভারতীয় গরুর রেড মিট ও ডিম খাইতাম।

আমরা রাতে ঘুমাই ও সকালে উঠি। ওঠার পরে ভারতীয় বই পড়ি, গরুর মাংস সিদ্ধ করি ও ডিম খাই। এইসব জিনিসের সরবরাহ যথেষ্ট। তাই আমাদের লাইফ সুন্দর।

ভারত দেশটি আমাদের পাশে পাশে থাকে। আমরা সুখী। সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র দামোদর মোদী। তিনি হিন্দু।

৫/৯/২০১৪

যে মারা যাবে

যে মারা যাবে
সে মারা যাবে
শেষ মুহূর্তে সে কানতেছে

ভালোর জন্যে তারে মারতেছো
তবু সে কানতেছে

৫/২/২০১৪

Copyright © 2016. Powered by WordPress & Romangie Theme.