শব্দকল্পদ্রুম: ‌‌’বুদ্ধিজীবী’

গণতান্ত্রিক সমাজে, সাধারণ মানুষের চাইতে কম কাণ্ডজ্ঞান ও অধিক তথ্য ধারণকারী অর্গানিক বস্তুদশার নাম বুদ্ধিজীবী।

একই ধরনের কথা কে কে আগে বলছেন তার হদিস প্রদানের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের গুরুত্ব ও উৎকর্ষ নির্ণীত হয়।

এই বর্গের স্তন্যপায়ীরা সাধারণত রাজধানীতে ঘাপটি মেরে থাকে। এরা ইউনিভার্সিটি গ্রান্ড কমিশন, ভিনদেশি সাহায্য সংস্থার অদরকারি অনুবাদ ও খবরদারি উপার্জন পদ্ধতিতে বারোমাস নিষিক্ত থাকে।

আপন মুখনিসৃত বাণীসমূহের ব্যাপারে এই জৈববস্তুটি সবচাইতে নিশ্চিত ধারণা পোষণ, প্রমাণ ও প্রচার করে।

প্রধানত প্রতিপত্তি ও দ্বিতীয়ত অর্থের বিনিময়ে জনস্বার্থের অবিরল গোয়া মারাই বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক অবদান।

সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বুদ্ধিরা হানা দিয়ে থাকে। তুলনায় অধিক বুঝদার গণমানুষের মগজ ধোলাইয়ের নিমিত্তে এরা সেখানে অন্য বুদ্ধিদের সঙ্গে তথ্য ও নিশ্চিতি বিনিময় করে। লোকে এই লেনদেনকে ‘টকশো’ নামে অভিহিত করে থাকে।

১৩/১/২০১৪

Flag Counter

কোনো প্রবীণ বুদ্ধিজীবীর সরকারপন্থী অকাল মৃত্যুতে

যারা, তোমার মুখে কল বসাইল আলজিভের

তাদের, মনের কথাই তোমার মুখে অনর্গল

 

শুনলে, তব বদনখানি টিভির মতই অহৈতুক

লাগে, কিন্তু কণ্ঠসহ।

অর্ধ, জ্যান্ত কোনো যাদুঘরের মমির ন্যায়।

 

তারা, যা শুনতে চায়, না হয় আজকে তুমি তা বললা

তবে, তোমার কথা কবে তুমি বলবা গো?

 

১১/১/২০১৪

Flag Counter

অন্বেষণ

নাইনটিন নাইনটি ফাইভে আমি অন্বেষার সঙ্গে পরিচিত হই। একটি ঈদের দিনে ছফা ভাইয়ের বাসায় গেছিলাম। দুপুরে। দেখলাম ছফা ভাই ঘুমান। আমি পা ধোওয়ার নিমিত্তে পাশের ঘরে গেলাম। ধুলাবালিতে স্পঞ্জের স্যান্ডেলও ময়লা হইত তখন। দেখলাম ছোট গোছলখানার একটা পাশে বিছানো চকিতে সোজা হইয়া একটা মেয়ে ঘুমাইয়া। আমি পা ধুইতে ঢুকলাম। বাইর হইয়া দেখি–এক পাশে চুল নামাইয়া দিয়া বইসা আছে ভদ্র মেয়েটি–লম্বা কালো মাথাভরা চুল কোমর পর্যন্ত নামতেছিল। একটু মোটা–কিন্তু গা ফর্সা বইলা আমারে আকর্ষণ করলো। দেখি নড়ে না। তাকায় ছিলেন কি উনি? এতদিন পরে আর তাকানোটা মনে নাই।

অন্বেষার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল অল্প দিনের। সব মনে নাই। পর দিন গিয়া দেখলাম ছফা ভাইয়ের একটা বেগনি সিল্কের শার্ট আর লুঙ্গি পইরা বোধহয় মোড়ায় বা ছোট টুলে বইসা আছেন অন্বেষা। Continue reading

হালুমহুলুমভালুমবাসা: লাভ ইন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট

বাঘের সঙ্গে হলো ভালোবাসা শুরু
লাজে মরি ডোরাকাটা, বক্ষ দুরু দুরু!

কে জানে বাঘের মর্জি
আমাকে কি ভালো লাগবে তার?
রাজি কি গরগররাজি
করিলে সংহার–

যদি আমি মরে যাই
বেঁচেবর্তে তরে যাই
এ ভবসংসার–

বাঘের দেখা কি আর পাবো, এ জীবনে?
পাবো না তো!

বাঘেরই সঙ্গে তবু ভাব হবে
এ ঘোর মণ্ডলে
আমি একা একাকিনী

বাঘের বাঘিনী

হবো, আর বসে রবো বাঘেরই কারণে
দূরে দূরে
বাঘ কি তা বুঝতে পারবে?
নাকি ভুল বুঝবে আমাকে? বাঘ
বুঝবে আমাকে?

Flag Counter

টুশি হিমু হুমায়ূন এবং এবং হিমু…

হুমায়ূন আহমেদের বই এবং হিমু... (১৯৯৪)

হুমায়ূন আহমেদের বই এবং হিমু… (১৯৯৪)

হুমায়ূন ভাই আমারে যে বই উৎসর্গ করছিলেন সে বইয়ের নাম এবং হিমু…। ডটসহ।

“ব্রাত্য রাইসু যে মাঝে মাঝে হিমুর মতো হাসে”–এটুকু লিখেছিলেন উৎসর্গপত্রে। এই নিয়া খুব বিরক্ত হইছিলেন সে সময়ের ইয়াং ফ্রেন্ড রোজিনা মুস্তারিন টুশি। এর আগে আমরা একবার হুমায়ূন ভাইয়ের বাসায়ও গেছিলাম হাতিরপুলের কোনায় বোধহয় সাততলায়। উনি টুশিরে টিস্যু বলতেছিলেন ভুল করার ভান কইরা। আর টুশি নিজের নাম শোধরাইতেছিলেন বার বার।

তো টুশি হিমুর মত হাসার ব্যাপারটা মানতে পারতেছিলেন না! মেলায় দেখা হইলে বেশ গুরুত্ব নিয়া আপত্তি জানাইলেন যে, আমারে বই উৎসর্গ করায় হিমু চরিত্রের মানহানি ঘটছে! আমি বললাম হুমায়ূন ভাইরে বলতে।

টুশি নিয়া একটা লেখা লিখছিলাম দুর্ঘটনায় ছাদ থিকা ওনার পইড়া মারা যাওয়ার বেশ পরে–৭ বছর পরে–”রোজীনা মুস্তারীন টুশির একটা ছবি“।

সে লেখায় তাঁর এই অপছন্দের ব্যাপারটা আসে নাই। হিমু নিয়া হুমায়ূন ভক্তদের যে মহামারী ভালোলাগা আছে তাতে ওই ভদ্রলোকের মত হাসতে পারাটা আমার একটা যোগ্যতা হিসাবে ধইরা নিতে পারলে ভালো হইত। কিন্তু দেখলাম, বোদ্ধা পাঠক-লেখকরা হিমু নিয়াই বরং হাসাহাসি করে!

আমি হুমায়ূন ভাইয়ের সে প্রশংসা বা সায় থিকা সাবধানে দূরত্ব বজায় রাখছি। মে বি হইতেই পারে সে কারণেই পরে আর তেমন কইরা ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করি নাই। কেই বা বলেন, এই আমলে হলুদ পাঞ্জাবি পরা রোমান্টিক যুবকের মতো হাসতে চাইবে!

রোজীনা মুস্তারীন টুশি (৮/৪/১৯৭৮-২৭/৪/২০০২)

রোজীনা মুস্তারীন টুশি (৮/৪/১৯৭৮-২৭/৪/২০০২)

Flag Counter

আওয়ার ছফা অ্যান্ড আজাদ

sofaazad

ছবিতে পাশাপাশি হুমায়ুন আজাদ ও আহমদ ছফা

আমি ছফা আজাদ দুইজনরেই পছন্দ করি–করতাম। আজাদের বাসায় একাধিকবার গেছি। মেইনলি ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্যে। এছাড়াও গেছি। একবার মনে আছে, বিকালের দিকে, বোধহয় ব্রিটিশ কাউন্সিলের দিকে হাঁইটা ওনাদের কলোনি পার হইতেছিলাম আমি আর সাজ্জাদ শরিফ ভাই। তখন আমি সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে উপন্যাস লিখি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায়– যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক। সাজ্জাদ ভাই ভোরের কাগজে আছেন। তো স্যার–স্যার নামেই ডাকতাম ওনারে–আমাদের দেখতে পাইলেন রাস্তায়। বললেন, কী ব্যাপার তোমরা! এখানে কী করছো! ওনার কণ্ঠস্বর, ‘এখানে কী করছো’ ভালো লাগল না আমার।

আমি বললাম, স্যার বিকাল বেলা মেয়ে দেখতে বাইর হইছি!

উনি প্রথমে অপ্রতিভ হইলেন–পরে সপ্রতিভ হইয়া হাইসা ফেললেন। বললেন কী বলো এগুলো, ওরা তো আমাদের মেয়ে! আমি বললাম, হ্যাঁ স্যার, ওদেরই দেখতে বাইর হইছি!

উনি বললেন, চলো, কাজ না থাকলে বাসায় চলো। আমরা ওনার বাসায় গিয়া চা বিস্কুট খাইলাম।

হুমায়ুন আজাদ স্যার সাবলীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ওনার সঙ্গে নানান জায়গায় দেখা হইত। প্রধানত আজিজ মার্কেট শাহবাগে। উনি সাদা কেডস, নেভি ব্লু জিনস আর সাদা টি শার্ট বা কখনো হাফ শার্ট পইরা আসতেন। আমারে আর সাজ্জাদ ভাইরে পারতপক্ষে ঘাটাইতেন না।

আমি ওনার একটা সাক্ষাৎকারের বই নিয়া একটা আলোচনা লিখছিলাম বাংলাবাজার সাময়িকীতে, ১৯৯৪ বা ৯৫-এ। বইটা যে পড়ি নাই তখনো তার উল্লেখ আছিল আলোচনায়। (সে বই অবশ্য এখনো পইড়া উঠি নাই। পড়মু।) সাক্ষাৎকারদানকারীদের ও ওনার চশমার বর্ণনা, কে কার দিকে চাইয়া আছে প্রচ্ছদে সে সব লিখছিলাম। উনি পইড়া খুশি হইছিলেন। বলছিলেন, তুমি না পড়েই যা লিখেছো, ওরা তা পড়েও লিখতে পারবে না।

ওনার অনেক গল্প আছে, আমার স্মৃতিশক্তি দুর্বল বইলা সব মনে পড়ে না। সাজ্জাদ ভাইয়ের দেখছি অনেক কিছু মনে আছে। ওনারে জিগাইলে আবার আমারও মনে পড়বে। তেমন মনে পড়া ঘটলে আরো লিখব। ছফা-আজাদ দুই জনেরই আদর্শবাদ আছিল। যে যে আদর্শের তার কাছে তাঁর তাঁরটা হয়তো ভালো লাগবে। আমার আদর্শবাদ ওইভাবে কখনোই ছিল না। দুইজনের সঙ্গেই আমি মিশতে পারতাম। তবে ছফা ভাই যেমন পুত্রবৎ জ্ঞান করতেন আজাদ তেমন করতেন না–তিনি জ্ঞান করতেন ছাত্রবৎ। কিন্তু আমি কখনোই তার ছাত্র তো ছিলাম না, বৎও ছিলাম না। কোনো একটা ইন্টারভিউতে আমাদের ফাজিল সম্বোধন করছিলেন আজাদ স্যার। আমরা–অন্তত আমি তাই ছিলাম। এখনও আছি। ভদ্রলোকদের অফাজিল ভদ্রতার মায়রে বাপ!

১৯/৭/২০১৩

Flag Counter