Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

কালানুক্রমিক

কবির দল

Posted by on Jun 5, 2015 in কবিতা | Comments

দেখো বয়স্ক আর হাড্ডিশুখনা রামকবিদের দল পরস্পরের পাখনা ধরে ঘোঁট পাকিয়ে পরস্পরে রাজার ক্ষেতের পাড়ে যেন উবে যাওয়ার আগমুহূর্তে পায়ের পাতা শক্ত করল মার্তৃগর্ভ ছেদন করল তারপর তারা দাঁড়াল ভয়ঙ্কর। যারা জায়গা পায় নি সামনাসামনি রাজার চাইতে একটু বয়স কম তারাও ক্ষেত ছাড়ে না ক্ষেতের পাশেই একাডেমি সেথায় সভার কাছেই রাজার দিকে তাদের লম্বা হাত বাড়ানো কাউয়া এসে বসেছে দীঘল হাতে— তাদেরও আশা পূর্ণ হলো রাজাটি যখন হাসিল উত্তরে। আর ওই যে বাচ্চা কবির তরুণ ছবির করুণ দেখা পাওয়া— তাও যাচ্ছে পাওয়া। ওরাও, তেমন তরুণ যদিও নয়, তবু বড় কবিদের লাগোয়া দল ওরা— ওরা ছাপাই দঙ্গল— ওরা নাতি কবি নাতনি কবি আরো কবিদের সঙ্গে নিয়ে ফুলের দণ্ডসম ওই তো ঝকমকাচ্ছে— যেন ফুলের দলটি কাকে দেবে আর কাকে দেবে না নিজেদের ওরা ঠিক রাখতে পারছে না। এরই মধ্যে এদের মালিক যারা ইন্ডিয়ারা যেই, বিমান থেকে নামিল ঢাকা ক্লাবে— প্রথমে একজন পদ্মশ্রীই তো দৌড়ে গেলেন তারপর গেল ফুলের দলটি ততঃপরে মাঝারি কবি হেলতে দুলতে বড় কবিরা রাজাটি সঙ্গে করে। না, মহাভারত থেকে মোদীর সঙ্গে পাইকার কোনো কবি আসে নি তাই আপাতত তারা কুর্নিশিবেন ক্লাবে, দেবেশ রায়ের দ্বারে।...

read more

নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ: আ জার্নি বাই বোট (২০)

Posted by on Mar 27, 2015 in কবিতা | Comments

এই বেলা অনেক ডিস্টার্ব হইল জলে স্থলে নিরানন্দ আকাশে বাতাসে নাহি গান এভাবে বাঁচবার কোনো দরকার আছে কি গুরু যদি মনের ইচ্ছা নদীর এ স্বচ্ছ জলে দাগ না কাটিল এই বেলা গুরু তবে জলে ঝাঁপ দেই?—বলিলা কর্তব্যরতা আনন্দশায়িনী এক গুরুর নৌকার। গুরু কয়, কয় কী কয় কী! জল, স্থল, নিরানন্দ, আকাশ, বাতাস, গান এ তো দেখি মহিলা কবিটি— এ মাগীর কাম সাপ্রেসড হইয়াই আছে এরে চোদা  দাও! তখন সে ইচ্ছায়িনী, শরীরিনী, নিরানন্দটিনী বলল, গুরু সত্য সত্য আমাকে করবেন? কিন্তু আমার তো আপনার এই পাপের নৌকায় শরীরের অভাব ঘটে না— আমি দিবারাত্র উপর-নিচ করতেই থাকতেছি আপনার নায়ের সব সারেং, কাপ্তেন, খালাসি, ডুবুরি, মাল্লা সকল খান্নাছ সহিবার ভার এ আমার ছোট্ট দেহ ধারণ করেছে, আজো আমি রাত্রিবেলা ঘুমাবার কালে জাহাজের রান্নাঘর সংলগ্ন সিঁড়িতে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে আমি আজই তো করলাম প্রাইভেসিতে শ্রদ্ধার মানবিক কারণে আমি সে পুরুষাঙ্গের মালিকের নামটি বলছি না। কিন্তু গুরু, বিশ্বাস করেন এত জাপটাজাপটি সাপটাসাপটি, লেপাটালেপটি, গমনাগমন এতে কোনো আনন্দ ঘটে না করলেন কি করলেন না দিয়া বস্তুত শরীরের চোদা খাওয়া দিয়া গুরু মনের ইচ্ছার প্রভাবনা পরিবেশে আদৌ পড়ে না আদৌ সঞ্চার হয় না সকালের সূর্যের আনন্দ কিংবা শিশুর সারল্য অর যেমতি সাঁঝের কালে দূর দিয়া পাখির উড়াল আমারে কী জানি দেয় সে সমস্ত এই খানে চিরতরে হ্যাং হইয়া আছে; ঘাটে বান্ধা জাহাজের দুলুনিতে আমার চিত্তে কোনো দোলা তো লাগে না— খানিক ঘুম পায়, ভাবি ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে জাহাজে ঘুরতে আছি গুরু আমি জাগনা না ঘুমাইন্না?...

read more

যাইও না যাইও না রে

Posted by on Nov 11, 2014 in কবিতা | Comments

ও ভাই সুশীল রে আইল দেশে সিপি গ্যাং কান্ধে লও ভাই ভাংগা ঠ্যাং তোমার শহীদ মিনার তোমার শহীদ মিনার তোমার যাওয়া হইল না ও ভাই সুশীল রে ভাই রে সুশীল বুঝছ নি তোমার গানের গোয়া তোমার গানের গোয়া মাইরা দিল সিপি গ্যাংয়ের গ্যাংগানি ও ভাই সুশীল রে দেইখা জুতার তলানি না চমকাইয়ো এক্ষুনি তোমার জন্যে ওরা তোমার জন্যে নিয়া আসবে আস্ত জুতার কারখানা ভাই রে সুশীল রে...

read more

থাকো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, নিরাপদ দূরত্বে

Posted by on Nov 6, 2014 in কবিতা | Comments

উৎসর্গ: ইমতিয়াজ আলম বেগ যদি তুমি কার্জন হলে যদি তুমি শহীদুল্লাহ হলে যদি তুমি বহিরাগতই অন্তত তোমার তো নামকরা নাম থাকা তো দরকার অন্তত যদি বা মাইর খাইবার পরে যদি তুমি সে দিয়া ঠসা বসা মিডলক্লাসেরে খাড়া করতে চাও কেননা শিক্ষিত লোকেরা বলো তো শিক্ষিত লোকেরে মারিতে কি পারে যে জন দিবসে...

read more

একজন গডো বা পিয়াস করিমের প্রতীক্ষায় শহীদ মিনারে তার লাশের শূন্যস্থানটি যা ভাবছে

Posted by on Oct 17, 2014 in কবিতা | Comments

আপনি কি একজন ঢাকাই কালচারাল সেক্যুলার। তাইলে আমার কথাও আপনি শুনবেন। কারণ আপনি উদার, পরমতসহিষ্ণু ও অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। আপনার মধ্যে শহীদ মিনার লইয়া যেই পবিত্রতার আহাজারি জাইগা উঠছে এইটারে আমি ধর্মীয় পবিত্রতা বোধের বা সেকরেড চৈতন্যেরই জাগরণ বলতে চাই। আপনারা যে এত পবিত্রতার ধজ্বা তা এতদিন কী প্রক্রিয়ায় লুকায় রাখছিলেন! মৃত পিয়াস করিম আপনাদের মধ্যে এই অগ্নি বা ফায়ার জাগায় দিলেন কি? তাই যত ঘৃণা তারে আপনারা করতেন তাতে আরো ঘৃণা যুক্ত করতে পারেন। মৃত পিয়াস আপনাদের লইয়া হাসতে হাসতে মড়ার খাট থিকা উইঠা বসতেও পারেন। কিন্তু আমি এই নিয়া কৌশলগত কারণেই এখন হাসতে চাই না। আমি চাই বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ। যেই যোগাযোগ আমারে বলবে কীভাবে আপনারা এত কনট্রাডিকশন পেটের মইধ্যে ভইরা রাখতে পারেন। এবং আমি সিরিয়াস ভাবেই বলব, এইটা আপনাদের ধর্মেরই অনুকরণ। স্বতঃ ঘটমান রিয়ালিটি ইনি নন। জানাযার নামাজ না পড়াইতে চাওয়ার যে মোল্লা সামাজিক অসম্মতি, আপনাদের সেক্যুলার শহীদ মিনার থিকা সেই অসম্মতিই আজান দিতাছে। পাড়ার সবাই যেমন ঠিক করে এই শয়তানের জানাযা হবে না, এই ‘শহীদ মিনারের মধ্যে কোনো পিয়াস করিম হবে না’ও সেই রকম অসম্মতিই। এখন আপনাদের শহীদ মিনারে যেহেতু বাংলার অমিত ‘শয়তান’ বুদ্ধিজীবী (মারা গেছেন তায় এখন তার শরীর ঠাণ্ডা তাই রসিকতা করলাম) পিয়াস করিমের লাশের একটা অনুপস্থিতির উপস্থিতি তৈরি হইছে–এই পুরা ব্যাপারটা দীর্ঘকালীন একটা জনসাংস্কৃতিক থাইকা যাওয়া ট্রাফিক জ্যাম, সেশন জট বা ব্রিজ তৈরি না-হওয়া হিসাবে আপনাদের কালচাররে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকবে। আপনাদের বার বার দেখাইতে হবে আপনারা কতই না সেক্যুলার, পবিত্রতা-টবিত্রতা আপনাদের হাতের মোয়া মাত্র। কিন্তু আপনাদের জন্যে কী রোদনে ভরা এই অক্টোবর, শহীদ মিনার নামটাই এখন পিয়াস করিম নামের লগে খাপে খাপ হইয়া গেল। বহুদিন আর আপনারা পিয়াস করিমের চেহারা মনে না কইরা শহীদ মিনার ভাবনাটি ভাবতে পারবেন না। দেখবেন, গডো বা পিয়াস করিম নামের এই ‘পাকিস্তান’টা, ‘জামাত-শিবির’ করা এই হাফ ডেডটা পবিত্র শহীদ মিনারে কোনো দিক দিয়াই যাতে রাতের অন্ধকারে ঢুইকা না পড়ে।...

read more

আধুনিক মহাভারতে আমাদের বসবাস

Posted by on Sep 5, 2014 in কবিতা | Comments

ভারতীয় বই মানেই হিন্দু বই নয়। ভারতীয় বই মানেই হিন্দু বই নয়। কিন্তু যদি হইতোও তাতে অসুবিধা ছিল না। ভারতীয় বই মানেই হিন্দু বই নয়, ভারতীয় গরু মানেই হিন্দু গরু নয়, ভারতীয় ডিম মানেই হিন্দু ডিম নয়। তবু আমাদের এইসব কিনতে হয়, খাইতে হয়, পড়তে হয়। যদি এইসব জিনিস হিন্দু হইতো তবুও আমরা ভারতীয় বই পড়তাম, ভারতীয় গরুর রেড মিট ও ডিম খাইতাম। আমরা রাতে ঘুমাই ও সকালে উঠি। ওঠার পরে ভারতীয় বই পড়ি, গরুর মাংস সিদ্ধ করি ও ডিম খাই। এইসব জিনিসের সরবরাহ যথেষ্ট। তাই আমাদের লাইফ সুন্দর। ভারত দেশটি আমাদের পাশে পাশে থাকে। আমরা সুখী। সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী। তিনি হিন্দু।...

read more

যে মারা যাবে

Posted by on Feb 5, 2014 in কবিতা | Comments

যে মারা যাবে সে মারা যাবে শেষ মুহূর্তে সে কানতেছে ভালোর জন্যে তারে মারতেছো তবু সে কানতেছে ৫/২/২০১৪

read more

শব্দকল্পদ্রুম: ‌‌’বুদ্ধিজীবী’

Posted by on Jan 13, 2014 in শব্দকল্পদ্রুম | Comments

গণতান্ত্রিক সমাজে, সাধারণ মানুষের চাইতে কম কাণ্ডজ্ঞান ও অধিক তথ্য ধারণকারী অর্গানিক বস্তুদশার নাম বুদ্ধিজীবী। একই ধরনের কথা কে কে আগে বলছেন তার হদিস প্রদানের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের গুরুত্ব ও উৎকর্ষ নির্ণীত হয়। এই বর্গের স্তন্যপায়ীরা সাধারণত রাজধানীতে ঘাপটি মেরে থাকে। এরা ইউনিভার্সিটি গ্রান্ড কমিশন, ভিনদেশি সাহায্য সংস্থার অদরকারি অনুবাদ ও খবরদারি উপার্জন পদ্ধতিতে বারোমাস নিষিক্ত থাকে। আপন মুখনিসৃত বাণীসমূহের ব্যাপারে এই জৈববস্তুটি সবচাইতে নিশ্চিত ধারণা পোষণ, প্রমাণ ও প্রচার করে। প্রধানত প্রতিপত্তি ও দ্বিতীয়ত অর্থের বিনিময়ে জনস্বার্থের অবিরল গোয়া মারাই বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক অবদান। সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বুদ্ধিরা হানা দিয়ে থাকে। তুলনায় অধিক বুঝদার গণমানুষের মগজ ধোলাইয়ের নিমিত্তে এরা সেখানে অন্য বুদ্ধিদের সঙ্গে তথ্য ও নিশ্চিতি বিনিময় করে। লোকে এই লেনদেনকে ‘টকশো’ নামে অভিহিত করে থাকে।...

read more

কোনো প্রবীণ বুদ্ধিজীবীর সরকারপন্থী অকাল মৃত্যুতে

Posted by on Jan 11, 2014 in কবিতা | Comments

যারা, তোমার মুখে কল বসাইল আলজিভের তাদের, মনের কথাই তোমার মুখে অনর্গল   শুনলে, তব বদনখানি টিভির মতই অহৈতুক লাগে, কিন্তু কণ্ঠসহ। অর্ধ, জ্যান্ত কোনো যাদুঘরের মমির ন্যায়।   তারা, যা শুনতে চায়, না হয় আজকে তুমি তা বললা তবে, তোমার কথা কবে তুমি বলবা গো?  ...

read more

অন্বেষণ

Posted by on Aug 9, 2013 in স্মৃতি | Comments

অন্বেষণ

নাইনটিন নাইনটি ফাইভে আমি অন্বেষার সঙ্গে পরিচিত হই। একটি ঈদের দিনে ছফা ভাইয়ের বাসায় গেছিলাম। দুপুরে। দেখলাম ছফা ভাই ঘুমান। আমি পা ধোওয়ার নিমিত্তে পাশের ঘরে গেলাম। ধুলাবালিতে স্পঞ্জের স্যান্ডেলও ময়লা হইত তখন। দেখলাম ছোট গোছলখানার একটা পাশে বিছানো চকিতে সোজা হইয়া একটা মেয়ে ঘুমাইয়া। আমি পা ধুইতে ঢুকলাম। বাইর হইয়া দেখি—এক পাশে চুল নামাইয়া দিয়া বইসা আছে ভদ্র মেয়েটি—লম্বা কালো মাথাভরা চুল কোমর পর্যন্ত নামতেছিল। একটু মোটা—কিন্তু গা ফর্সা বইলা আমারে আকর্ষণ করলো। দেখি নড়ে না। তাকায় ছিলেন কি উনি? এতদিন পরে আর তাকানোটা মনে নাই। অন্বেষার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল অল্প দিনের। সব মনে নাই। পর দিন গিয়া দেখলাম ছফা ভাইয়ের একটা বেগনি সিল্কের শার্ট আর লুঙ্গি পইরা বোধহয় মোড়ায় বা ছোট টুলে বইসা আছেন অন্বেষা। হাসিতে উদ্ভাসিত মুখ। কিন্তু হাসেন না। ২. অন্বেষা নিয়া বেশি বলার নাই। উনি নাচ শিখতেন তখন। দিনাজপুর থিকা পলাইয়া আসছিলেন, উঠছিলেন ছফা ভাইয়ের বাসায়। ছফা ভাইয়ের বেশ বেগ পাইতে হইছে ওনারে রক্ষা করতে গিয়া। অন্বেষা ছফা ভাইয়ের বাসায় ওঠার পরে তরুণ ও অনতিবয়স্ক সব কবি-সাহিত্যিকরা—আমরা—ঘন ঘন ছফা ভাইয়ের বাসায় যাওয়া শুরু করলাম। আগে সপ্তাহে দুই কি একদিন যাইতাম। এখন দেখি প্রতি দিনই ঘর ভরা লোক। একটা টেবিলের এক প্রান্তে ছফা ভাই, নাগরিক প্রান্তে আমি। বেতের সোফায় অন্যেরা। ছফা ভাইয়ের পাশে অন্বেষা। চা দিলে পরে আমি এই পাশের দরজা দিয়া আর অন্বেষা ওই পাশের দরজা দিয়া ঘুইরা ছফা ভাইয়ের বিখ্যাত ছাদে গিয়া দাঁড়াইতাম। চা খাইতে খাইতে যট্টুক আলাপ। এর মধ্যে ভিতর থিকা ছফা ভাইয়ের উচ্চকণ্ঠের হাক, রাইসু কোম্পানি, তোমার চা খাওয়া হইল! আমরা, চা খাওয়া যেহেতু হইয়া যাইতো, গিয়া আবার বসতাম যার যার চেয়ার ও মোড়ায়—নাকি টুলে? এগারো সালে শুনলাম, অন্বেষা নাকি বিলাতে অন্বেষা কোম্পানি খুলছিলেন, একটা নাচের স্কুল।...

read more