গোলাপ ৪

যে ধরা দেবে পুকুরের পাড়ে

হিজল গাছের নিচে–

তারে পুকুরের পাশে ধানের ক্ষেতের ধারে

ভালো লাগবে কি?

২৮.৯.২০১০

খলিশার বাঁচা

খলিশা মাছের দুখভোগ হলো

অতি সাধারণ জলতলদেশে।

জীবনে দুখের কারণ রয়েছে—

জীবরূপধারী খলিশারও হলো

প্রভূত দুঃখ, ময়লা পানিতে

পানার মধ্যে, মরা ঘাস আর

শাপলার ডাটি ঘেষতে ঘেষতে

খলিসার রূপ হেজেমজে গেছে।

আগাছারও কোনো সিরেনিটি নাই

এ হেন নিআর্ট জলের জগতে

খলিশারা কেন বাঁচিয়া রইবে!

 

khalisha1

 

 

 

 

 

 

সীতাকুণ্ড, ২৫/৯/২০১০ | হালিকের দিন

Flag Counter

শালিখের দিন

জগত আবার পাখি পাখি লাগে

এ লাগাটি তবে কোথায় রাখি?

ওগো পাখি,

ওগো কদম দিনের একটি বাদল পাখি,

শাখার আড়ালে তুমি লতাপাতা

পাখার আড়ালে আঁখি;

ওগো নদীবরাবর উড়িয়া যাইছে

পথ হারানোর পাখি—

এ ত্রিভুবনে আমাদের তবে থামবে না ডাকাডাকি?

এসো হাতখানা হাতে রাখি।

 

কিন্তু আমরা ভাগ্যচক্রে পালকপ্রধান

হাত নাই কোনো, আকাশ রয়েছে—

উড়িবার আছে বাকি;

আমরা বেচারা শালিখ দিনের

দুইটি শালিখ পাখি।

 

২১/৯/২০১০

 

Flag Counter

জলে মৃত্যু

যেন কোনো জাতিস্মর

অহেতু শৈশব নিয়ে

শুয়ে আছে

আকাশের

তারাদের নিচে

যেন কেউ আর নাই বহু বহু দিন ধরে

সমুদ্রের পারে যেন

রোদ নাই

ছায়া নাই

অন্ধকার

যারা ছিল চলে গেছে

তোমার যাওয়ার কোনো কিছু নেই

যে যেখানে নিয়ে যাবে

নিয়ে গিয়ে ছেড়ে যাবে

তেমন থামার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন নাই আর

অস্পষ্ট আলোর মত

তুমি অন্ধকার তুমি

যেন এই অন্ধকার বিকাল বেলায়

সময় হারায়ে গেল বেলাভূমে

বালুতটে

সমুদ্রের পারে

যেন কাশবনগুলি শুধু চেয়ে আছে

উদ্ভিদের মাতৃরূপ হয়ে

তারা সঙ্গ দেবে দূর থেকে

যেমন পানির শব্দ চারধারে

যেমন পাখির ঝাপটা

সন্ধ্যাবেলা

যেমন দিনের শুরু সন্ধ্যাবেলা

অকস্মাৎ

যেন এই ভিজা বালু

স্মরণ করছে তুমি কবে থেকে

কোথা থেকে

কখন জন্মের শুরু

কখন মৃত্যুর শুরু

শুয়ে আছো কোন সেই শতাব্দিরও আগে

যেন চাপা পড়া বালু শুধু

মৃত্যু মনে রাখে

যেন তোমার পিঠের নিচে

পায়ের তলায়

ঠাণ্ডা বালু কাদা কাদা

এ পৃথিবী জায়মান

তোমাকে জাপটে আছে

রিরংসার মত

যেন চুলের ছিটিয়ে থাকা

সমুদ্রের পার এসে

জোর করে

ভিজিয়ে দিয়েছে

তবু

তুমি শুয়ে আছো বলে

অন্য কিছু ঘটার কিছুই নেই

যেন করার কিছুই নেই

দূরে কালো সার বাঁধা পাহাড়েরা

দ্রুত যাচ্ছে চলে

বাতাসের অন্ধকার

চারপাশে প্রদক্ষিণ রত

হাওয়া জলকণা

সাজিয়ে রেখেছে

তুমি ভেসে উঠছো অতি ধীরে

যেন তুমি উঠছো না কোথাও

যেন

অন্ধকার ফুঁড়ে

আপন অক্ষ ধরে ঘুরে যাচ্ছে জীবদেহ

অনিঃশেষ

ঘুরছে না মোটেই

যেন চক্রাকার সংক্রামক

অবসন্ন কাল

আপনার তিরোভাব

নির্দেশ করেছে

এই আকাশের নিচে

এই তারকার নিচে

এই জটিল সমুদ্রবাষ্প অধ্যুষিত

বেলাভূমি ধরে

ফেলে যাওয়া পদচ্ছাপ

রয়েছে সান্ত্বনা হয়ে

যেন প্রয়োজনহীন মৃত্যু

আগুয়ান

যেন এই মৃত্যু সাবলীল, সাদা মৃত্যু

ভেজা মৃত্যু

অন্ধকারে যে কোনো মৃত্যুর মত

ইচ্ছাজাগানিয়া

শুধু যেন হাওয়া বয়

যেন আমি শুয়ে আছি

ঘুম থেকে জাগার আগেই যেন

বালুতটে, পড়ে আছি

যেন আমি আমবনে জুঁইশাখে

রয়েছি জড়ায়ে।

১৬.৯.২০১০

Flag Counter