পোড়া বইগুলা ও জলে ডোবা মাঠে

sh1

পোড়া আর আধপোড়া বই দিয়া বাগান সাজাইয়া রাখছে বইমেলা কর্তৃপক্ষ। ইনস্টলেশনের মতো লাগলো। চারদিকে বেড়া দেওয়া। অন্ধকার। শিক্ষার বিকল্পময় পেশাগত আধা গাম্ভীর্য লইয়া কয়টা পুলিশ খাড়ানো। পুকুর পাড় থিকা আবার ঘুইরা যাইতে হইল অন্যদিনের স্টলে। সিদ্ধার্থদার বইটা কিনতে গেছিলাম । ‘জলে ডোবা মাঠে, সারারাত’।

সঙ্গে হুমায়ূনের রেখে যাওয়া বই কিনলাম–দেয়াল, হিজিবিজি। মাজহারুল ইসলামের ‘হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নয় রাত’ কিনলাম। মাজহার ভাই বলেন, আপনি কেন কিনতে গেলেন! তিনি বললেন, এখন দুইটা বই এমনি নিয়া যান। আমি পছন্দ করলাম শাকুর মজিদের ‘নুহাশপল্লীর এইসব দিনরাত্রি’ আর মাজহার ভাই দিলেন ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেরা পাঁচ উপন্যাস’।

‘হিজিবিজি’টা শুচিস্মিতা তিথিরে দিলাম। তারে পঞ্চাশ টাকা দামের একটা বই কিনা দিব বইলা ধইরা বাইন্ধা মেলায় নিয়া গেছিলাম, যেহেতু। তিথি পারমিতার বোন। বাসায় আইসা সিদ্ধার্থদার বইটা খুইলা প্রথমে দেখলাম ‘বরিশাল’ কবিতা। কী সুন্দর ঘোরলাগা বর্ণনা:

প্রপেলার ঘুরে চলে, ঘুরে চলে, ঘুরে ঘুরে প্রপেলার

ঢুকে যায় ঘুরে ঘুরে চলার চিন্তায়,

নদীপাড় ঘুরে আসে জলরব, তারাদের ছুঁয়ে এসে, জল কেটে,

পুনরায় পানির ভিতরে ঢোকে, বের হয়, পথ ভ্রষ্ট হয়ে একা

আপন উৎস থেকে ভেসে ভেসে জলচাকা কোথায় যে যায়;

 

আমার আবার পোড়া বইগুলারে মনে পড়ে। ওরা–বিক্রি হইতে না পারা বইগুলা ছিন্ন, বিধ্বস্ত, হতাশ, উল্টাপাল্টা পইড়া রইছে মাটিতে। পুলিশ ওদের পাহারা দেয় কেন!

২৭.২.২০১৩

প্রজন্ম চত্বর

জায়গাটা নতুন নাম পাওয়ার পরে অন্য রকম হইছে। তুমি যেইখানেই যাও, বাসায় ফিরা ঘুমাও গা–এইটা এইখানে, তোমার শূন্যস্থানটা নিয়া থাকতেই থাকবে! তোমার জয়গান ঐ নামের মধ্যে বাজতেই থাকবে। তুমি আবার এইখানে আসবা, এই পিচের উপরে বসবা। যখন খুশি। এইটা তোমারই তো জায়গা। এইখানে তুমি হাসবা, ঘুরবা, গান গাবা। যখন কম গাড়ি চলবে বইসা পড়বা রাস্তায়। ভাববা, কী জানি তুমি একটা ভাবতে চাইছিলা–তা যেন কী! তা যেন কী! তা কি সব আগের মত আছে। তখন তোমার পাশ দিয়া যে গাড়িটা ফুশ কইরা যাবে গা–তার কোনো দোষ নাই! এই রাস্তা তারও।

১০.২.২০১৩

Flag Counter