পারমিতা ১

সব মায়া ছিন্ন করে অনিবার্য বুদ্ধিমান সন্ধ্যার বাতাস

চক্রাকারে আরো ছুটতে চায়;

যেন সকল লোকের সঙ্গে একবার দেখা হলো এ মরজীবনে;

যেন একটি কবিতা আমি লিখে রেখে ছিঁড়ে ফেলে ভুলে গিয়ে দেখেছি জীবনে;

মুগ্ধতার পাশে তুমি টুলে বইসা কোন কথা বলো?

পায়ের ওপরে থাকে পা?

দেখো

দূরে দূরে বৃত্তাকারে ঘুরিতেছে

পাতা

পাতার মগডাল

আর পাখি আর

বৃক্ষ আর

শাখা আর

ঘাসের অগ্রভাগ ঘুরে মরতে চায়–

ওরা দেখতে চায় তোমার কথার স্পর্শে প্রতিবেশ

কেমনে বদলে যায়!

 

এই সন্ধ্যালগনে যারা

আরো যারা যারা আসবে

দূর থেকে কাছ থেকে উর্ধ্বাকাশ হয়ে

তারা চক্রাকারে নামিতেছে

ঘুরিতেছে

থামিতেছে,

প্রাগৈতিহাসিক কোনো বিরহের মতো–

তারা নামবে কি?

থামবে কি?

এইখানে

যেথায় কবিতা লেখে গান গায় ছবি আঁকে

বিষণ্ন বিপ্লবী ওই বালকমণ্ডলী

ওদের সঙ্গে থাকো,

হাসি হাসি–।

ভারি ভারি সৃষ্টির চিন্তায়

যেন ওরা একটি দশক

তোমার মুখের দিকে

চেয়েচিন্তে পার করতে পারে।

১১.৩.২০১৩

আপন বিড়াল নয়

একেক বার তো একেক রকম হয়

যেমন ঝড়ের পরে ফিরা আসলো

তোমার বিড়াল তোমার ঘরে

 

সেই বিড়াল তো নয়।

 

তারে অধিক ভালোবাসা দিয়া

দুধ খাওয়াইয়া, চা খাওয়াইয়া,

বসাইয়া রাখো, কোলে তোলো,

জিগাও তুমি, ‘কই গেছিলা?’

বিড়াল মুখটি বাঁকাই করে

হাসির মতো, কয় না কথা–

 

ঝড়ের পরে আগের বিড়াল

পরের বিড়াল হয়

তোমার আপন বিড়াল

আপন বিড়াল নয়।

 

১০.৩.২০১৩

 

পার্টটাইম বিপ্লবীর গান

ও আমার বাধ্যতামূলক ভালোবাসা,
মধু ও শিশির দিয়া তৈরি আমি
তৈরি আমি শীতকাল দিয়া।

তোমার চরণে
লেপটাইয়া চেপটাইয়া থাকি
অভ্যাসবশত।

তবু আমার মধ্যে তুমি…

তবু আমার মধ্যে তুমি
যত চাও পাইতে পারো
মিষ্টি অস্বীকার–
নিয়ন্ত্রিত বিদ্রোহ
আর
সরকারী হুঙ্কার।

৬.৩.২০১৩