বহুগামী কবিদের টাইডাল ওয়েভ

বুঝছো—তুমি একটি বারই ব্রেক আপ করবা
বয়ফ্রেন্ড ছেড়ে আইসা পড়বা
বিকালের আগেভাগেই।

এরপর আমরা দুইজন মিলা
ঘুরতে থাকব ছন্দে
ডানে তাকাইব আনন্দে আর বামেও তো
একই আনন্দ।

শাহবাগেই কত পরীরা ঘুরছে,
ওরা ছোট কবিদের বন্ধু,
তোমারে ছাড়াও ওদের সঙ্গে করব—
বেংলা কবিতার মায়রে চুদব
পেয়ারার গাছে দাঁড়কাক আছে
চোদাচুদিময় বাংলা!

মেয়েদেরই দিকে তাকাইয়া থাকব, আমরা—
অন্য কারো কি এসব ব্যাপারে মতামত নিব,
কামু কী বলেন আপনি?

১৪/৬/২০১৫

রাস্তায়

সকলে যেদিকে দৌড়ে চলেছে
সেদিকে তুমি কি যাবা না না নাকি?
ভোরবেলা ছিল অন্য রকমই
যত দিন হলো
আগেকার সব ঘটা ঘটনারা
একে একে সব ঘটতে চলেছে?

এখন আবার ধুলায় বসিয়া
কানতে থাকবা
ওগো পাঠকিনী?

এই এই করে কত দিন গেল
তোমার আগেই পৃথিবীর চাকা
সে সে পথ দিয়ে ঠিক চলে গেছে
তবে এও ঠিক
চাকাদের দিন অল্প দিনেরই। তবু,
তার আগে যদি ফিরিতে না পারো
পথেই তোমার দিবস ফুরাবে
বড়জোর তুমি জীবনানন্দের
গ্রেট কবিতাই পড়তে থাকবা
ভাবতে থাকবা গ্রামে গেছো গিয়া।

গ্রামে কারা পড়ে জীবনানন্দ?

৭/৬/২০১৫

কবির দল

দেখো বয়স্ক আর হাড্ডিশুখনা রামকবিদের দল
পরস্পরের পাখনা ধরে ঘোঁট পাকিয়ে পরস্পরে
রাজার ক্ষেতের পাড়ে
যেন উবে যাওয়ার আগমুহূর্তে
পায়ের পাতা শক্ত করল
মার্তৃগর্ভ ছেদন করল
তারপর তারা দাঁড়াল ভয়ঙ্কর।

যারা জায়গা পায় নি সামনাসামনি
রাজার চাইতে একটু বয়স কম
তারাও ক্ষেত ছাড়ে না
ক্ষেতের পাশেই একাডেমি
সেথায় সভার কাছেই
রাজার দিকে তাদের লম্বা হাত বাড়ানো
কাউয়া এসে বসেছে দীঘল হাতে—
তাদেরও আশা পূর্ণ হলো
রাজাটি যখন হাসিল উত্তরে।

আর ওই যে বাচ্চা কবির তরুণ ছবির করুণ দেখা পাওয়া—
তাও যাচ্ছে পাওয়া।
ওরাও, তেমন তরুণ যদিও নয়,
তবু বড় কবিদের লাগোয়া দল ওরা—
ওরা ছাপাই দঙ্গল—
ওরা নাতি কবি নাতনি কবি
আরো কবিদের সঙ্গে নিয়ে
ফুলের দণ্ডসম ওই তো ঝকমকাচ্ছে—
যেন ফুলের দলটি
কাকে দেবে আর কাকে দেবে না
নিজেদের ওরা ঠিক রাখতে পারছে না।

এরই মধ্যে
এদের মালিক যারা
ইন্ডিয়ারা
যেই,
বিমান থেকে নামিল ঢাকা ক্লাবে—
প্রথমে একজন পদ্মশ্রীই তো দৌড়ে গেলেন
তারপর গেল ফুলের দলটি
ততঃপরে মাঝারি কবি হেলতে দুলতে
বড় কবিরা রাজাটি সঙ্গে করে।

না, মহাভারত থেকে মোদীর সঙ্গে
পাইকার কোনো কবি আসে নি তাই
আপাতত তারা কুর্নিশিবেন ক্লাবে,
দেবেশ রায়ের দ্বারে।

৫/৬/২০১৫