“মমিনসিং তো আমরার দেশ” – আজেদা বানু (সর্বসাধারণ ১৯৯৯)

আজেদা বানু, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ
আজেদা বানু, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ

আজেদা বানু, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।

দেশ কই আপনের?

গৌরিপুর, মমিনসিং।

মমিনসিং কী করতেন?

হেইডা আমরার দেশ, এনো আইলাম। মমিনসিং তো আমরার দেশ।

আইছেন কবে?

আইছি দিন অইছে। পঞ্চাশ-পাঁচচল্লিশ বছর অইয়া গেছে ঢাকার শহরে।

ঢাকা শহরে এত বছর, আপনের বয়স কতো?

কন এল্লা হিসাব কইরা।

এহেনে কী করেন?

এহেনে? এই বাচ্চারা কাজ কাম করে।

বাচ্চা কচ্চা কয়জন?

আছিল তো আল্লার মাল চাইরজন। বড় ছেরা মইরাছেগা, ছোড ছোড দুইলা থাহে। এডিরে লইয়া কাম কাজ করে বুড়া। অসুইক্কা মানুষ, আপনের চাচা। এনোই থাহে।

চাচা কী করে?

কী করবো? এট্টু বইয়া এট্টু আইট্টা….

কাজ কাম পায় ঠিকমত?

কাম পাইলে কাম করতারে না।

ডেইলি ইনকাম কত আপনেগো?

এই দুগা উগলা উগলা মরিচ টরিচ টোহায়, হেইলি বেচাকিনি কইরা দশ বারো টেহা থাহে। মরিচ টরিচ টোহায়।

খাওয়া-দাওয়া করেন কয় বেলা?

দুই বেলাও করি, তিন বেলাও অয়, এক বেলাও অয়। সময় বুইজ্যা রানতারি না।

থাহেন কই?

এই যে এনো অফিসের গেটে।

ভোট দিছিলেন?

ভোট তো দিছিই। ভোট তো আমরা দেশোই দেই।

ভোটের সময় কি দেশে যান গা?

হ্যাঁ, দেশো যাইগা।

টেকা দেয় কেডা দেশে যাওয়ার?

যাই তো আমরার টেহা দিয়া।

নিজেগোর টেহা দিয়া যাইয়া ভোট দেন?

হেইডা তো ঠিহি। এইত্তো এহন আর দিতাম না। একটা কাপড় পাই না, টেহা পাই না, চিনি পাই না, ভাতে কষ্ট কইরা বিদেশে আয়ি… দিতাম না, যাইতাম না ভোট দিতে।

গোসল টোসল করেন কোন জাগায়?

এই দুইটা মারকেডে করি, গোসল বাসায়ও করি, কাজকাম করি যহন বাসায়।

বাসায় কাজ করেন?

করি কিছু, বুড়া মানুষ।

এহন কোন বাসায় কাজ করেন?

শেখ সাবের বাসায়।

কোন শেখ সাব?

এই কাজীপড়ার শেখ সাব।

কয় টেহা দেয় মাসে?

দেয় কত, দশ টেহা, বিশ টেহা।

মাসে কত দেয়?

মাসে আমি করি না।

শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, এরশাদের নাম হোনছেন?

এডি তো হোনতেই আছি, লাভ অয় না গো বাবা।

তিনজনের মইদ্যে কারে বালা লাগে?

বেহেইত্তো সমান, কারে বালা লাগবো!

 

১৪/৩/১৯৯৯, প্রথম আলো (পত্রিকায় শিরোনাম: যাইতাম না ভোট দিতে)

 

Flag Counter

‌‌‌”আমি একটা কী এমন!” — ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌হাবিবউল্লা কাজী / সর্বসাধারণ ১৯৯৯

১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বসাধারণ নাম দিয়া পাবলিকের ইন্টারভিউগুলি নেওয়া শুরু করি। প্রথম আলো পত্রিকার উপসম্পাদকীয় পাতার কোনা দিয়া ছাপা হইত। আলস্যের কারণে খুব বেশি নেওয়া হয় নাই। দশ এগারোটা হবে। জানুয়ারি ২০০০-এর পরে আর নেওয়াও হয় নাই। হাবিবউল্লা কাজীর সঙ্গে আলাপ হয় কাওরান বাজার এলাকায়। – ব্রাত্য রাইসু ২৯/৮/১৩

হাবিবউল্লা কাজী, চণ্ডিপুরদি, সিরাজদিখান (১৯৯৯)
হাবিবউল্লা কাজী, চণ্ডিপুরদি, সিরাজদিখান; ছবি. বাবু আহমেদ ১৯৯৯

হাবিবউল্লা কাজী, পিতা: মাতবর আলী কাজী, গ্রাম: চণ্ডিপুরদি, থানা: সিরাজদিখান, ইউনিয়ন: লতিফদিখান, জেলা: মুন্সিগঞ্জ।


আপনের নাম?

আমার নাম হাবিবউল্লা কাজী।

দেশ কোথায়?

দেশ আমাদের সেরাজদিখান, বিক্রমপুর।

এইখানে কোথায় আসছিলেন?

ইস্তেমাই আইছিলাম।

ইস্তেমা কী রকম হইলো?

বালোই। খুব ভালো। অনেক লোক অইছে।

এর আগে আইছিলেন ইস্তেমায়?

হ।

প্রত্যেক বছরই আসেন?

হ, আল্লায় যদি আনে।

কী কাম করেন ?

এমনে সংসারের কাম করি।

দেশের অবস্থা কী রকম চলতাছে?

দেশের অবস্থা ত ধরেন, এই যে বিষ্টি গেছে না একটা? এই বিষ্টিয়ে ফসল-পানি বহুত মাইর গ্যাছে। গরিবের অবস্থা খুব খারাপৈ। গিরস্তের ঐ শান্তি নাই। Continue reading “‌‌‌”আমি একটা কী এমন!” — ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌হাবিবউল্লা কাজী / সর্বসাধারণ ১৯৯৯”