Category: কবিতা

জলে মৃত্যু – ২

কবিতা

(সিদ্ধার্থ হককে)

ঠাণ্ডা ও স্থির শীতকালীন পুকুরের অল্প গভীরে আমি শুয়ে আছি
মাছেদের অনুরোধে
মাছের সমাজ
জলতল ছেড়ে উঠতে আমাকে দেবে না
তারা চায় আমি স্থির শুয়ে থাকি চিৎ হয়ে—
কেননা আমার চিন্তা অল্পপ্রাণ, তাতে কিছু নাই
তাদের ঘোষণা—জলের গভীর চিন্তা অল্প জলে আমি করি
এই পাপ মাছের সরল জীবনধারা অ্যালাউ করে না
তারা চায় শুয়ে থাকা
অল্প গভীর কোনো পুকুরের তলদেশে, যার নাম নাই।

পুষ্করিনী ধরণীতে অসংখ্য অসংখ্য যার নাম নাই কিন্তু বহু তলদেশ আছে
আছে অল্প পানি ক্ষুদ্র প্রাণ পচা পাতা শামুকের খোল কিংবা
অবহেলা অকারণে মরে যাওয়া সুপ্রাচীন গোপন মাছেরা
কাঁটায় কাঁটায় তারা ঘুরিতেছে
জীবিত মাছের স্রোতে তাদের আভাস
অতি সূক্ষ্ম দেখা যায়
কাদার সমূহ স্তর এলোমেলো করে তারা উঠে আসে
নেমে যায়
ধীরে ধীরে ঘুরতে ঘুরতে
যেন তারা নাই
যেন তারা চলে গেছে—নিতান্ত শায়িত আমি
কোথা আছি
কেউ তা জানে না শুধু মাছেদের রাষ্ট্রযন্ত্র তটস্থ সমাজ
তারা জানে আমার স্ট্যাটাস
কিন্তু তাদের অত তাড়া নাই
কম্পাস দণ্ডের প্রায় শুয়ে থাকা মানব শরীরে
পরিত্রাণ দিয়ে যায় জীবিত মাছেরা—
তারপর উর্ধ্বে ওঠে
পুকুরের পৃষ্ঠ থেকে চর্তুদিকে নির্বাপিত লোকালয়ে বন্দি সব গাছ দেখতে যায়
তারা দূর আর নিচ থেকে গাছেদের বিশ্বরূপ দেখে
আবার নিকটে আসে
মাছেদের সন্তরণ দেখা ছাড়া আর পানি আছে
ঘোলা ও স্বচ্ছ রূপে একই জল
সূর্যালোকে বিধাতা বঞ্চিত আমি পানি দেখি
পানিদের নেমে আসা দেখি—দেখি
সূর্যালোক নেমে আসে পানিপথে তাই সূর্য দেখি বলা যায়, তাই বলা যায় আমি জীবিত বা মৃত
একান্ত জীবিত কিংবা মৃত আমি নই,
যদি ভাসমান কিন্তু শায়িত আমি পানির গভীরে
আমি যেন বা পাথর
পাথর বিষণ্ন কোনো নদীপথে সাঁঝবেলা
ঝরাপাতা স্তূপ। যেন সকলই আমার মধ্যে—আমি সব রূপ
আমি একা একা দেখা দেই, শীত গ্রীষ্ম শরৎ হেমন্তে আমি
নিজে দেখা দেই—পুকুরের তলদেশে
আরো বহু পুকুরের গোপন সন্ত্রাস পথে, যোগাযোগে, আমি ভাসমান
অল্প গভীর কোনো পানিদের তলদেশে,
আমার এই স্থির সন্তরণ
আত্ম ও অপর সব নিজ নিজ জলের গভীরে স্থিত ভাসমান শুয়ে থাকা নয়শো বছর
যেন কোনো মাছই আমি
প্রাগৈতিহাসিক কোনো শুয়ে থাকা পাথুরে নদীর
অথবা শ্যাওলা দলে শ্যামা পোকা কাঁপিতেছে
উর্ধ্বে কোনো জলযান
মলিন কাঠের তৈরি
আমার ওপরে।
বোমারু বিমান থেকে নিজেকে বাঁচাতে
আরো নিচে নামতে চায়
আরো বেশি অহিংসতা চায়,
যেন কোনো কচুরিপানাই কিংবা ঝোপের আড়াল তাকে রক্ষা করবে
এমন নিযুত আশা
আমার প্রতিই। কিন্তু দেখো, সব দৃশ্য আধা আধা—
আছে আর নাই যেন এক সঙ্গে অভিনীত
দর্শকবিহীন।
কিংবা আছে মহাকাল,
বেখেয়ালে দেখিতেছে,
পৃথিবীর ধ্রুব রূপ নিত্য বদলের—

অবিরাম খোলা চোখে এসবই দেখতে হচ্ছে,
তাই আমি দেখতে থাকি। হয়তো দেখি না—
হয়তো শুধু স্বপ্নে দেখি এইসব
যেহেতু পানির মধ্যে, নিচেও তো, তাই মাছ স্বপ্নে দেখা দেয়—
অথবা বাস্তব তাই মাছের ভাষায়, কথা বলে, সঙ্গ দেয়
কিন্তু সবই আবছা আবছা, জলীয় টলীয়—

আমার শায়িত এই জীবদেহ, জলমধ্যে
মাছের বাহিনী
মারে ও জীবিত রাখে
ঠুঁকরে দেখে যায়
কীভাবে বা প্রজাতি বদল ঘটে তাদের পরীক্ষাগারে,
কীভাবে জটিল জৈববস্তু—চিন্তাশীলও—গভীর জলের মধ্যে
চেতনা হারায়।

৬ ডিসেম্বর ২০১৫

ভেরি ফিশি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

কবিতা

একটাও মাছ না পাইলাম যে কতই চমৎকার
হি হি কতই চমৎকার!

একটা মাছ পাইয়া ফেললেই কমত চমৎকার
শেষে কমত চমৎকার

দুইটা মাছ ত পাইতে হইলে হইত সাধারণ
আহা সব কিছুই তখন কিন্তু হইত সাধারণ

তিনটা মাছের প্রাপ্তি আমার ঘটল অকারণ
মানে, পাইলে তাইলে বলা যাইত
দুলাল ভাইয়ের তিনটা মাছের কারণ অকারণ

চাইরটা মাছের ধরা পড়া বড়ই অত্যাচার
যে জন একটাও মাছ পাইল না হের চাইরটা মাছের গাছ—
এ কি কুকিল নাকি দোরা কাউয়া
যে তুমি পানির নিচে হাত পাতলেই কান্ধে দিব ডাক

ইটস এ বেঙ্গলিয়ান ক্যানাডিয়ান ফিশিং ফিশিং ফাক!

২১/৯/২০১৫

কবির দল

কবিতা

দেখো বয়স্ক আর হাড্ডিশুখনা রামকবিদের দল
পরস্পরের পাখনা ধরে ঘোঁট পাকিয়ে পরস্পরে
রাজার ক্ষেতের পাড়ে
যেন উবে যাওয়ার আগমুহূর্তে
পায়ের পাতা শক্ত করল
মার্তৃগর্ভ ছেদন করল
তারপর তারা দাঁড়াল ভয়ঙ্কর।

যারা জায়গা পায় নি সামনাসামনি
রাজার চাইতে একটু বয়স কম
তারাও ক্ষেত ছাড়ে না
ক্ষেতের পাশেই একাডেমি
সেথায় সভার কাছেই
রাজার দিকে তাদের লম্বা হাত বাড়ানো
কাউয়া এসে বসেছে দীঘল হাতে—
তাদেরও আশা পূর্ণ হলো
রাজাটি যখন হাসিল উত্তরে।

আর ওই যে বাচ্চা কবির তরুণ ছবির করুণ দেখা পাওয়া—
তাও যাচ্ছে পাওয়া।
ওরাও, তেমন তরুণ যদিও নয়,
তবু বড় কবিদের লাগোয়া দল ওরা—
ওরা ছাপাই দঙ্গল—
ওরা নাতি কবি নাতনি কবি
আরো কবিদের সঙ্গে নিয়ে
ফুলের দণ্ডসম ওই তো ঝকমকাচ্ছে—
যেন ফুলের দলটি
কাকে দেবে আর কাকে দেবে না
নিজেদের ওরা ঠিক রাখতে পারছে না।

এরই মধ্যে
এদের মালিক যারা
ইন্ডিয়ারা
যেই,
বিমান থেকে নামিল ঢাকা ক্লাবে—
প্রথমে একজন পদ্মশ্রীই তো দৌড়ে গেলেন
তারপর গেল ফুলের দলটি
ততঃপরে মাঝারি কবি হেলতে দুলতে
বড় কবিরা রাজাটি সঙ্গে করে।

না, মহাভারত থেকে মোদীর সঙ্গে
পাইকার কোনো কবি আসে নি তাই
আপাতত তারা কুর্নিশিবেন ক্লাবে,
দেবেশ রায়ের দ্বারে।

৫/৬/২০১৫

নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ: আ জার্নি বাই বোট (২০)

কবিতা

এই বেলা অনেক ডিস্টার্ব হইল
জলে স্থলে নিরানন্দ
আকাশে বাতাসে নাহি গান
এভাবে বাঁচবার কোনো দরকার আছে কি
গুরু
যদি মনের ইচ্ছা
নদীর এ স্বচ্ছ জলে দাগ না কাটিল
এই বেলা
গুরু তবে জলে ঝাঁপ দেই?—বলিলা কর্তব্যরতা
আনন্দশায়িনী এক
গুরুর নৌকার।

গুরু কয়, কয় কী কয় কী!
জল, স্থল, নিরানন্দ, আকাশ, বাতাস, গান
এ তো দেখি মহিলা কবিটি—
এ মাগীর কাম
সাপ্রেসড হইয়াই আছে
এরে চোদা  দাও!

তখন সে ইচ্ছায়িনী, শরীরিনী, নিরানন্দটিনী
বলল, গুরু সত্য সত্য আমাকে করবেন?
কিন্তু আমার তো আপনার এই পাপের নৌকায়
শরীরের অভাব ঘটে না—
আমি দিবারাত্র উপর-নিচ করতেই থাকতেছি
আপনার নায়ের সব সারেং, কাপ্তেন,
খালাসি, ডুবুরি, মাল্লা সকল খান্নাছ
সহিবার ভার
এ আমার ছোট্ট দেহ ধারণ করেছে,
আজো আমি রাত্রিবেলা
ঘুমাবার কালে
জাহাজের রান্নাঘর সংলগ্ন সিঁড়িতে
দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে আমি আজই তো করলাম
প্রাইভেসিতে শ্রদ্ধার মানবিক কারণে আমি সে পুরুষাঙ্গের
মালিকের নামটি বলছি না।
কিন্তু গুরু, বিশ্বাস করেন
এত জাপটাজাপটি
সাপটাসাপটি, লেপাটালেপটি, গমনাগমন
এতে কোনো আনন্দ ঘটে না
করলেন কি করলেন না দিয়া
বস্তুত শরীরের চোদা খাওয়া দিয়া গুরু মনের ইচ্ছার
প্রভাবনা পরিবেশে আদৌ পড়ে না
আদৌ সঞ্চার হয় না সকালের সূর্যের আনন্দ কিংবা শিশুর সারল্য অর
যেমতি সাঁঝের কালে দূর দিয়া পাখির উড়াল
আমারে কী জানি দেয়
সে সমস্ত এই খানে চিরতরে হ্যাং হইয়া আছে;
ঘাটে বান্ধা জাহাজের দুলুনিতে আমার চিত্তে কোনো দোলা তো লাগে না—
খানিক ঘুম পায়, ভাবি ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে
জাহাজে ঘুরতে আছি
গুরু আমি জাগনা না ঘুমাইন্না?

২৭/৩/২০১৫

যাইও না যাইও না রে

কবিতা

ও ভাই সুশীল রে

আইল দেশে সিপি গ্যাং
কান্ধে লও ভাই ভাংগা ঠ্যাং
তোমার শহীদ মিনার
তোমার শহীদ মিনার তোমার যাওয়া হইল না

ও ভাই সুশীল রে

ভাই রে সুশীল বুঝছ নি
তোমার গানের গোয়া
তোমার গানের গোয়া মাইরা দিল
সিপি গ্যাংয়ের গ্যাংগানি

ও ভাই সুশীল রে

দেইখা জুতার তলানি
না চমকাইয়ো এক্ষুনি
তোমার জন্যে
ওরা তোমার জন্যে নিয়া আসবে আস্ত জুতার কারখানা

ভাই রে সুশীল রে

১১/১১/২০১৪

থাকো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, নিরাপদ দূরত্বে

কবিতা

উৎসর্গ: ইমতিয়াজ আলম বেগ

যদি তুমি কার্জন হলে
যদি তুমি শহীদুল্লাহ হলে
যদি তুমি বহিরাগতই
অন্তত তোমার তো
নামকরা নাম
থাকা তো দরকার
অন্তত যদি বা
মাইর খাইবার পরে
যদি তুমি সে দিয়া
ঠসা বসা মিডলক্লাসেরে
খাড়া করতে চাও
কেননা শিক্ষিত
লোকেরা বলো তো
শিক্ষিত লোকেরে
মারিতে কি পারে
যে জন দিবসে

৬/১১/২৯১৪

একজন গডো বা পিয়াস করিমের প্রতীক্ষায় শহীদ মিনারে তার লাশের শূন্যস্থানটি যা ভাবছে

কবিতা

আপনি কি একজন ঢাকাই কালচারাল সেক্যুলার। তাইলে আমার কথাও আপনি শুনবেন। কারণ আপনি উদার, পরমতসহিষ্ণু ও অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন।

আপনার মধ্যে শহীদ মিনার লইয়া যেই পবিত্রতার আহাজারি জাইগা উঠছে এইটারে আমি ধর্মীয় পবিত্রতা বোধের বা সেকরেড চৈতন্যেরই জাগরণ বলতে চাই।

আপনারা যে এত পবিত্রতার ধজ্বা তা এতদিন কী প্রক্রিয়ায় লুকায় রাখছিলেন! মৃত পিয়াস করিম আপনাদের মধ্যে এই অগ্নি বা ফায়ার জাগায় দিলেন কি? তাই যত ঘৃণা তারে আপনারা করতেন তাতে আরো ঘৃণা যুক্ত করতে পারেন। মৃত পিয়াস আপনাদের লইয়া হাসতে হাসতে মড়ার খাট থিকা উইঠা বসতেও পারেন। কিন্তু আমি এই নিয়া কৌশলগত কারণেই এখন হাসতে চাই না। আমি চাই বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ। যেই যোগাযোগ আমারে বলবে কীভাবে আপনারা এত কনট্রাডিকশন পেটের মইধ্যে ভইরা রাখতে পারেন।

এবং আমি সিরিয়াস ভাবেই বলব, এইটা আপনাদের ধর্মেরই অনুকরণ। স্বতঃ ঘটমান রিয়ালিটি ইনি নন।

জানাযার নামাজ না পড়াইতে চাওয়ার যে মোল্লা সামাজিক অসম্মতি, আপনাদের সেক্যুলার শহীদ মিনার থিকা সেই অসম্মতিই আজান দিতাছে। পাড়ার সবাই যেমন ঠিক করে এই শয়তানের জানাযা হবে না, এই ‘শহীদ মিনারের মধ্যে কোনো পিয়াস করিম হবে না’ও সেই রকম অসম্মতিই।

এখন আপনাদের শহীদ মিনারে যেহেতু বাংলার অমিত ‘শয়তান’ বুদ্ধিজীবী (মারা গেছেন তায় এখন তার শরীর ঠাণ্ডা তাই রসিকতা করলাম) পিয়াস করিমের লাশের একটা অনুপস্থিতির উপস্থিতি তৈরি হইছে–এই পুরা ব্যাপারটা দীর্ঘকালীন একটা জনসাংস্কৃতিক থাইকা যাওয়া ট্রাফিক জ্যাম, সেশন জট বা ব্রিজ তৈরি না-হওয়া হিসাবে আপনাদের কালচাররে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকবে। আপনাদের বার বার দেখাইতে হবে আপনারা কতই না সেক্যুলার, পবিত্রতা-টবিত্রতা আপনাদের হাতের মোয়া মাত্র।

কিন্তু আপনাদের জন্যে কী রোদনে ভরা এই অক্টোবর, শহীদ মিনার নামটাই এখন পিয়াস করিম নামের লগে খাপে খাপ হইয়া গেল।

বহুদিন আর আপনারা পিয়াস করিমের চেহারা মনে না কইরা শহীদ মিনার ভাবনাটি ভাবতে পারবেন না।

দেখবেন, গডো বা পিয়াস করিম নামের এই ‘পাকিস্তান’টা, ‘জামাত-শিবির’ করা এই হাফ ডেডটা যাতে না পবিত্র শহীদ মিনারে কোনো দিক দিয়াই রাতের অন্ধকারে ঢুইকা না পড়ে।

১৭/১০/২০১৪

  • 1
  • 2
  • 8

ফেসবুক ফলো

ফেসবুক পেজ

May 2017
S M T W T F S
« Aug    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

ইনস্টাগ্রাম

[instagram-feed]