Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Aug 14, 2008 in স্মৃতি | Comments

আমার শিল্পচর্চার খানিকিতিহাস ২

১.

১৯৮৪ এবং ‘৮৫ সালে আমি দুইবার ঢাকার আর্ট ইনসটিটিউটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়া ফেল করছিলাম।

ডিজাইন নিয়া একটা প্রশ্ন ভুল বোঝনে শেষের বার, আর কী কারণে জানি না আগের বার টিকতে পারি নাই।

(ভালোই হইছে!)

ভর্তি হওনের লাইগ্যা অনেক দৌড়াদৌড়ি করছিলাম। মনে আছে কোনো আর্টিস্ট বড় ভাইয়ের লালবাগের বাসায় গেছিলাম খোকা (মাহবুবুল ইসলাম) বইলা আমার ছোট কালের এক বন্ধুর লগে। তারপরে রণবীর এক অনুজ আত্মীয়রে লইয়া ওনার বাসায়ও তদবির করছিলাম।

কাজ হয় নাই। আল্লাহ আমারে অ্যামেচার আর্টিস্ট বানাইয়া রাখছেন।

১৯৮৮ সালে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যাইতে শুরু করি। ওইখানে বেশ কিছু বইপত্র পড়া শুরু হয়। বিদ্যোৎসাহী তরুণ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ শুরু হইল।

ওয়াও। ওই সময়ে আমি আমার প্রায় মধ্যবিত্ত বলয়ের বাইরে অল্প বিস্তর স্বচ্ছল ফ্যামিলির ছেলেমেয়েদের নিকটবর্তী হওয়া শুরু করি। ওইখানে আমার প্রতিভা বিক্রয়টা জরুরি ছিল।

আগে গান শিখতাম (’৮৪); কিছুদিন আগে নাটকের দলে (’৮৬) অভিনয় করছি। এখন স্বচ্ছলতর সংস্কৃতিসেবীরা দেখলাম আবৃত্তি করে। আমার কবিতা লেখা শুরুর (’৮৭) বছর দুয়েকের মইধ্যে ছবি আঁকার শুরু। ১৯৮৯ সাল থিকা আমি নিউ মার্কেটের মডার্ন নামের দোকান থিকা নিয়মিত ছবি আঁকনের খাতা কিনতাম। যেহেতু খাতা কিনতাম, ছবি আঁকতাম। দিনমান আমি ওই খাতা লইয়া ঘুরতাম। আর স্ট্যাডলার ২বি পেনসিল দিয়া ঘইষা ঘইষা ছবি আঁকতাম।

ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আর শাহবাগের আজিজ মার্কেট আছিল আমার সীমানা। এ ছাড়া যখন যেথায় যাইতাম খাতা থাকত সঙ্গে।

sketch-1989_5070125229_o

স্যুররিয়ালিজমের ক্রিটিক করছেন দুইজন মৎস্য ও আমাদের যৌক্তিক গাণিতিক নৈসর্গচিন্তা, ১৯৮৯

২.
তবে আমার শিল্পচর্চার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ছোট কালে যখন পড়ালেখা শুরু করছি তখন স্কুলে পরীক্ষার সময় বছরে একবার পাখি বানাইয়া লইয়া যাইতাম। আমার আম্মা খুব সুন্দর মাটির পাখি বানাইতেন। কাদা দিয়া কীভাবে বানাইতে হয় আমি সেগুলি শিখতাম। ওই পাখিদের গায়ে মাখার জন্য নীল ও লাল রঙ বানাইতে হইত কী কী দিয়া জানি। সম্ভবত নীল দপর্নের নীল আর জর্দার রঙের লগে কিছু একটা মিশাইয়া লাল রঙ বানাইতাম। মনে আছে পাকিস্তান থেকে আসা পাড়াতুতু এক খালাম্মার কাছে সুতা দিয়া হাতপাখার নকশা করা শিখছিলাম। অনেক কঠিন সেই কাজ। এত ছোট কালের সেই ব্যাপার যে আমি ওনার পাশে শুইয়া শুইয়াই সুতার সেই নকশা করতাম। আবিদ আজাদের খালাম্মা আমার ভয় করে জাতীয় কিছু ছিল না সেইটা। মানে তখনও ততটা বয়স আমার আয়ত্তে আইসা পড়ে নাই।

আমাদের খিলগাঁও সরকারী হাই স্কুলের (১৯৭৯-৮৫) আর্টের শিক্ষক মোল্লা স্যারের সবিশেষ পিকিউলিয়ার পারসোনালিটি ছিল। উনি ছাত্রদের বিশেষ পাত্তা দিতেন না। এখন বুঝি (তখন বুঝতাম না) আর্টিস্টরা ওই রকম হইয়া থাকেন। সে সময়ও আমার ভিতরে আর্টের উপকৃতি সাধন হইয়া থাকতে পারে।

আরেক ঘটনা মনে আছে। এইটা সামাজিক ছবি আঁকনের। আমাদের বাড্ডায়, এক ভদ্রলোক আছিলেন স্ট্যাম্প বিষয়ে যার নাম প্রায়ই উচ্চারিত হয়—যার বাসায় বিদেশী লোকরা আসতো। একদিন ওনার দুই ছেলে শামীম-শাহীন আইসা আমগো কয়েকজনরে বাসায় নিয়া গেল। যে ওনারা ছবি আঁকনের জিনিসপাতি দিব, আমরা ফ্রি ছবি আঁকতে পারমু। মনে আছে সেদিন বর্ষাকাল আছিল। ও দুই ভাইদের বাসার ছাদ থিকা দিকচক্রবালে বর্ষা ঘনাইতেছিল।

আমি তা আঁকছিলাম। অন্যেরাও এই পরিবেশ প্রকৃতিই আঁকছিল।

ওদের ওই ছাদের ঘরের কাঠের দরজাটা গাঢ় নীল রঙের ছিল বইলা মনে পড়ে। আঁকনের পরে আমরা ছবি ওই বাসায় রাইখাই চইলা আসি। আবার পরের দিন আঁকনের কথা আছিল। তবে সেটি আর হইয়া ওঠে নাই। এখন আমার ধুরন্ধর মন বলে ওই ঘটনাটা আছিল কোনো এনজিও কার্যক্রমের অংশ নিশ্চয়ই।

দুই ভাইয়ের লগে বছর বিশেক ধইরা দেখা নাই। ওরা আমেরিকা থাকে।

৩.
১৯৮৯ সালে খাতা কিনা ছবি আঁকতে গিয়া বুঝতে পারি যে ছবি আঁকার ক্ষেত্রে আমি প্রতিভা বিশেষ। কবিতার প্রতিভাও তখনই বুঝতে পারতেছিলাম।

কেবলই পেনসিলে ছবি আঁকতাম। একবার মিনার মাহমুদের অনুরোধে তার বিচিন্তা পত্রিকার জন্য কী একটা কার্টুন টাইপ ছবি আঁকতে গিয়া প্রতিভা হারাইয়া ফেলি। পরে এখন মাঝে মাঝে তা আসে মাঝে মাঝে আসে না।

’৯৫ সালে ফোজিয়া খান একটা খাতা আমারে উপহার দিছিল বোধহয় জন্মদিনে। সবুজ রঙ-এর মলাটঅলা। ওই খাতায় কিছু অবিস্মরণীয় ছবি আমি আঁকছিলাম। সে কারণে ফৌজিয়ারে কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমার বিশ্বাস গজাইছে আর্ট মাধ্যমে কী কবিতা লেখায় অন্যের কথা একদম শুনতে নাই। কেউ প্রশংসা শুরু করলে নিজের প্রশংসা নিজেই করতে ধরবেন। এইটাই বাঁচনের উপায়।

ভোক্তা আপনের আর্ট ধইরা ফেললে খবর আছে। তখন ঐতিহ্য বিক্রয় থিকা আরম্ভ কইরা দেয়ালের সাইজ, বিবিধ মাধ্যম, বেঙ্গল, আলিয়স ফ্রসেজের কৃপাভিক্ষা ইত্যকার জিনিসের আড়ালে ছবি কেবলই ছবি হইয়া রবে। প্রফেশনাল ছবি আঁকা লোকদের জন্য আমার সবিশেষ সহানুভূতি। প্রফেশনাল হইয়াও যে ছবি আঁকতে পারতেছেন ওনারা সেইজন্য। কত কিছু করতে হয়!

পান্থপথ, ঢাকা, বাংলাদেশ ১৪/৮/২০০৮

(আমার শিল্পচর্চার খানিকিতিহাস ১)

Comments

  1. দীপন পাল says:

    তা আপনি কি কি বাল কবে, কখন, কিভাবে ছিড়সিলেন তাতে দুইন্যার বেবাগ মাইনষের কি? না ফর্ম না কন্টেন্ট – দুইই … ঐ যে বল্লাম … এই হাংগ্রিগিরি এখন বস্তাপচা লাগে।