সামন্ত

এই যারা কাজ করছে
চারিদিকে
উত্তাল পাহাড় কুঁদে তুলে আনছে
অষ্টাবক্র মুনির রূঢ়তা
তাদের প্রহরা করি
আয়তক্ষেত্রের রাজা সুসামন্ত আমি এই
চরণে রয়েছে চিহ্ন ইশ্বরের
–প্রপিতামহের।

চারিদিকে এই যারা ছড়ানো ছিটানো
নুয়ে পড়া, হীনমুখ, ব্রাত্যজন
জনতা যাদের নাম
ওঠে বসে শোয় যারা অঙ্গুলিনির্দেশে
প্রত্যহ তাদের জন্য কৃপা করি
কৃপাভিক্ষা করি। যেন
ইশ্বর উদ্দিষ্ট দেন–
তাকান নিচুতে।

আমার পায়ের কাছে
এত এত নিবেদন
রাজভক্ত, গণ্ডগ্রাম, খঞ্জ ও রমণী
সবারই মস্তক নিচু
জ্ঞানভারে–
সব মুখ অন্ধকার
সব ভক্ত নুয়ে নুয়ে হাঁটে
কেননা তাদের
পদচ্ছাপে উল্লিখিত জন্মের রহস্য
আর মৃত্যুর নিদান।

পবিত্র মৃত্তিকা শুধু
উদগীরণ করে–
যা কিছু সংযতবাক
জড় ও পুরাণ–যা কিছু শিলায় সৃষ্ট
শিলাপ্রাণ ধরে–
তাদের ব্যগ্র মুখ উদ্যত শরীর
হেঁকে উঠছে একে একে
আমার চারপাশে।

এবং যা কিছু দেখো,
সমস্তই নির্ধারিত
একমাত্র আমার–
যা কিছু দূরত্ব আর
যা আছে নিকট–যা যতো মনুষ্য আর
তাদের নিজস্ব
যা আছে রমণী আর পালের শিশুরা

দিগন্ত অবধি সব আমার সন্তান।

১৯৯২

Flag Counter

প্ররোচনা

যে সব উদ্বাস্তু সঙ্গে প্রেম ছিলো
ভাবের বাণিজ্য গুরুতর
তারা আজ
অন্য কারো প্রতি মজি
দুর্দান্ত প্রণয়ে উচ্চতর; কাহ্নুগীতি
প্রাহ্নানন্দে গায়


স্হগিত। তোমার দৃষ্টি। অন্তরীণ ।
খোলো চোখ
দেখো যত স্বপ্নের চরিত্র
রয়েছে তোমাকে ঘিরে–পাঠ করছে–অবান্তর
শয্যার বর্ণনা


শোনো আজ এই ভ্রম প্রস্তাবিত,
কুণ্ঠায় রচিত
ছিলো, আমাদের প্রেম মাত্র ভাষা ব্যবহারে
ছিলো তোমারে উদ্ভাস
ভ্রান্তিময়;
একথা সংশয়ে বলি ক্লান্তিকর লৌকিক ভাষায়


এই যে পথের পার্শ্বে
যাদের চরণচিহ্ন–
অনর্থক ভাষার মারপ্যাঁচ;
স্তব্ধ হোক। তুমি চোখ তোলো।
দেখি, কোথায় অযথা বাক্য
থেমে যায়;
অবলীলাক্রমে


ধরো এই হাত আমি
অন্ধের জ্যেষ্ঠভ্রাতা
হেঁটে যায়, আগাছার সাথে কার
সম্পর্ক তেমন?

যাহা তোমার প্রশ্রয়ে হই
প্রগল্‌ভ;
–সহনশীলতা! তব সঙ্গে লহ,
অগ্র হও, না করো পশ্চাৎ


ওগো ছলোছলো চক্ষু
স্নেহপসারিণী–
ওগো প্রণয়সম্ভব করো প্রতারণাযোগ্য তুমি
না রাখো সংশয়;
আমি যথাবাক্যস্থলে,
তোমার বন্দনা করবো, উদ্ধৃত্ত কথায়


না করো করুণা শোনো স্থিরজলে আর্তপ্রতিকৃতি
পক্ষপাতে ভেসে যায়…
করুণা তোমাকে করে; না ভাঙে
হঠাৎ বায়ু-প্ররোচনা শুনে
চোখ রাখে সন্দিহান তোমার নয়নে;

তোমার বিচ্যুতি করো! পা রাখো অস্থির
দুই নৌকার গলুই-এ
যাহা বর্জ্য বেঁধে রাখো দুর্বল প্রতিমাপুঞ্জ, দীর্ঘ এপিটাফে।


বলো করো কেন কুণ্ঠা গুণ্ঠন লুটাও আধোলীনা।

যদি পথভ্রষ্ট তুমি
দষ্ট হও, ক্লেশ করো, অর্ধযতি হও!
স্বেচ্ছাচারে নত হও, পোড়াও অঞ্চল
তুমি পূর্ণরতি হও!

ও যার দ্বিধার মাত্রা হিমাংকেরও নিচে
তারে শুধাও কুশল
তারে জনসভা ডেকে
করো গো চুম্বন তুমি হীনেগতি হও!


না হয় বিরহ বলো,
বলো তবে হৃদয় মধ্যাহ্ন;
আমি তোমার যাতনা স্মরি
তব দুখবর্ষ আজি উদযাপন করি।

১৯৯১

Flag Counter

বয়স্ক শিক্ষা

কী হবে শিক্ষার ভূতে আরও বহুতর পেত্নি অধীনতাকামী
আদিগন্ত রামনাম বোতলে বোতলে
নাচে উল্টো পদচ্ছাপ
অর্থাৎ
বয়স্ক শিক্ষার কথা
সর্বলোকে প্রচার পেয়েছে; এসেছে
বয়স্ক যিশু–শিশুমাত্র
যেহেতু আদম
চতুর্থ দিবসে চায়
আদিগ্রন্থ ব্যাখ্যা আর
সৃষ্টিতত্ত্বে লেজের মহিমা!

১৯৯১

Flag Counter

প্রণতি

এসো হে প্রণত পাখি, ছিঁড়ে খুড়ে ডানা এসো

নেমে এসো অনুর্বর বিশাল আঁধারে

আজ দীর্ঘ, দীর্ঘ, দীর্ঘশ্বাস

ভেদ করে নেমে পড়ো, ভিত্তিহীন স্বতন্ত্র দেয়ালে

 

উড়েছে বিষণ্ন পাখি বিষাক্ত শরীর নিয়ে

নিলীমাকে ছত্রখান করে দিয়ে

বেজে ওঠে কণ্ঠস্বর–ও তার চিৎকার!

 

কার কিবা আসে যায়

পাখিরা উড়বে আরো, ডানা ছেড়ে

উড়ুক পাখিরা; আমি পাখি পুষি না তো!

১৯৮৯

Flag Counter