বড়লোকরাই ভালো ॥ তথ্য ও প্রমাণ ১৯৯৮

ছোট বড় ও মাঝারী মধ্যবিত্তের উদ্দেশে

 

এমনকি বড়লোকদেরকেও আজ ভালা লাগা শুরু হচ্ছে

যখন দেখছি তারা ত্রাণ দেয়

ওয়ার্ড্রোব খুলে

দেখো দুধের গাড়িতে আজ পানি

এল পরিত্রাতা

কত দূর থেকে

এল তারার দেশের সিপাহীরা

 

এমনকি নেতানেত্রী ত্রাণ দিচ্ছে

পত্রিকার

প্রথম পৃষ্ঠায়

এমনকি দেখো তারা ত্রাণ দেয়

সাতেরও পাতায়

এমনকি ত্রাণ দিচ্ছে টিভিস্ক্রিনে

রেডিয়োয়। তাই

 

এ বছর ভাতের অভাবে কেউ মারাই যাবে না।

 

নাকি মারা যেতেই পারে না?

আহা, মারাই যাবে না নাকি যেতেই পারে না

নিয়ে কত কথা বলা যেত

কিন্তু দেখো পানি এল ১৬ই আগস্ট

পানি এল বিপদসীমার উঁচু দিয়ে

শহররক্ষা বাঁধ রক্ষা করে শহরেরই লোক

এখন তর্ক তোলা সমীচীন নয়

দেশে বিবেক জাগ্রত হচ্ছে আমাদের

দূর থেকে জাগিবার শব্দ শোনা যায়

মাইকে

বিবেকের প্রচার চলেছে

বড়লোকরা জামাজুতা খুলেই ফেলেছে

সহানুভূতির চোটে উঠে পড়ছে ট্রাকে ট্রাকে

নেমে যাচ্ছে গ্রামেগঞ্জে রাস্তায় রাস্তায়

তাই গরীবের বাচ্চার চেয়ে বড়লোকদের

তথ্য ও প্রমাণসহ,

সর্বসম্মতিক্রমে

ভালো বলা যায়।

 

১৯৯৮

 

Flag Counter

ভূত খেদাইন্না গান

এ কি ভূতাগত দেশে রে
—ভারতচন্দ্র রায় (১৭২০–১৭৬০)

বায়ু যখন ভারি হচ্ছেন নৌকা যাচ্ছে ডুবে
বাঁশের আগায় বান্ধো ভাই রে ভূত খেদাইন্না কুপি

কুপি জ্বলুক নিশীথ রাইতে কুপি জ্বলুক চান্দে
কুপির তলায় বাচ্চা ভূতে খলবলাইয়া কান্দে

একলা কান্দে ভূতের বাসা ফোকলা কাঁদেন বাঁশ
ফরফরাইয়া উড়তে থাকেন বাঁশের বারো মাস

ফরফরাইয়া উড়েন মাসি ধরফরাইয়া বছর
গাঙ্গের তলায় ভূতের বাসা গাঙ্গের উপ্রে আছর

গাঙের উপরে বাসর আমরা গাঙের সহোদর
নরের মধ্যে নারী আমরা নারীর মধ্যে নর॥

১৯৯৬

 

গুহ্য

এই কথা মূল্যবান আবারও জানাই
মাথা তিনখানি কিন্তু এক বিন্দু মাথাব্যথা নাই
তাই বড়ই চিন্তায় আছি। আর

কথামাত্র আছে একটাই মূল্যবান—
যতক্ষণ প্রাণ আছে লম্বা করো কান
শোনো জাতীয় সঙ্গীত। আর বাদবাকি

দুনিয়াতে ফ্যাকরা আছে মোটে সর্ব সাইত্রিশ প্রকার
তার একখানি এই,
জগতের ভালোমন্দ কোনো অর্থ নেই

আছে বোতল গেলাশ। তাই
মূল্যবান কথা আমি অপাত্রে দেব না
বরং বোতলবন্দি করে রাখবো গুণে গুণে ছত্রিশ বছর

আর তারপর? এসবের পরে যদি
কৌতূহল বাকি থাকে কারো—নিয়ে যাও গুহ্যবাক্য
ভদ্রজনগুহ্যে-গুহ্যে সম্প্রচার করো

(মাহবুব কবির সম্পাদিত সুমেশ্বরী পত্রিকায় ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত)

 

যা লিখি আমি তোমার কথাই

যা লিখি আমি তোমার কথাই

তোমার মনোযোগ।

সেসব সচেতনতার ভাষা।

 

ভাষ্য এবং বিশেষণের অনেকও জঞ্জাল

থাকে—

তোমার প্রতি আমার ছদ্মটান

বোঝানোর জন্য।

হয়তো,

এসব তুমি বুঝতে পারো

তাই—

কিঞ্চিৎ করুণার উদ্রেক

 

তোমার মধ্যে হয়

তুমি অধিকও বিস্ময়—

প্রকাশ করো…।

 

তখন তোমার প্রতি আমার অন্তর্বর্তীকালীন এ সংশয়

বদলে কি যায় বদলে কি যায়

মনস্তাপের ভাষায়?

 

বাড্ডা, ঢাকা, মে ১৯৯২

 

Flag Counter

শিক্ষাসফর

গুরুমারা উচ্চশিক্ষা দোল খায় অর্থহীন ভাবের সাম্রাজ্যে
যদি কিছু উঁচু বৃক্ষে বসবাস যারা করে
তারা দেয় অহরহ শিক্ষার সম্মান

বরাবর যাত্রা করো চীন অভিমুখে
আর নেই কিছু নেই কিছু
বইয়ের পাতায়

১৯৯১

Flag Counter

আমাদের বন্ধুগণ

আমাদের বন্ধু যারা ছিল মাত্র মানুষ তারাই দ্যাখো
ভিন্নতর রূপ নিয়ে উল্লেখ্য হয়েছে

স্নিগ্ধতায় পরিকীর্ণ ভূতের বাচ্চার মোহে মুগ্ধ প্রায়
আমাদের প্রণয়সঙ্গীরা দ্বিধা খুলে অন্বেষণ
ঝুলে পড়ছে–সংবেদনশীল কড়িকাঠে;

ব্যর্থতা অনেক, রাত্রি মৃত্যু নয় অনিদ্রারোগির লক্ষ্য
মর্ষকাতরতা; স্বাধীন চিন্তার ক্ষেত্রে
দ্ব্যর্থ ঘোড়া ঘাস খায়, সামন্তবাড়ির চাঁদ

ডুবু ডুবু চৌবাচ্চায়, অনুল্লেখ্য বুড়িগঙ্গাজলে–

১৯৯১

Flag Counter